রাজশাহী প্রতিনিধি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রাজশাহীতে অচিরেই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এরজন্য ইতিমধ্যে আইন পাস হয়েছে।
রাজশাহী মেডিক্যাল চত্বরে জায়গা সমস্যার কারণে পৃথক স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এর জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জায়গা পেলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চিকিৎসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ, চিকিৎসাসেবা অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সভাকক্ষে চিকিৎসক ও বিএমএ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি চাই আপনারা কাজ করেন। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা আন্তরিক হলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারেন।’
নিজেদের সীমাবন্ধতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘চেষ্টা করছি চিকিৎসাসেবায় কাজের মান বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্য দিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’
মতবিনিমকালে উপস্থিত চিকিৎসকরা রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নিকট উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্যযোগ্য সমস্যার মধ্যে চিকিৎসক সংকট, জনবল ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা, আইসিইউকে ১০ শয্যা থেকে ২০ শয্যায় উন্নীতকরণ, একহাজার কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপন।
চিকিৎসকদের এসব দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী মতবিনিময় সভা থেকেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। এসময় মন্ত্রী মহাপবিচালককে একটি টিম গঠন করে রামেক হাসপাতাল সফরে আসার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যও নির্দেশ দেন তিনি।
হাসপাতালের নার্সদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘যতদূর সম্ভব রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসাসেবা একটি মহান পেশা। আর এ কারণেই রোগীদের প্রতি নার্সদের ব্যবহার হতে হবে অত্যন্ত আন্তরিক।’
মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এ দেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই অথবা ভেলরে যাচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য ভালো কিছু না। এর সঙ্গে দেশের সম্মানের বিষয়টি জড়িত আছে। কিন্তু আমাদের দেশেও ভালো মানের চিকিৎসক আছেন। চিকিৎসকদের কাজের বিষয়ে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম, রামেকের উপাধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বেলাল, বিএমএর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তবিবুর রহমান, রাজশাহী জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. এসআর তরফদার, সাধারণ সম্পাদক ডা. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

