অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করে উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভি (আরোপ ও আদায়) বিল ২০১৫ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তা অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে যে বিল নিচ্ছে তার সঙ্গে ১ শতাংশ সারচার্জ যোগ হবে। সরকার মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে এই সারচার্জ আদায় করবে। মোবাইল ফোনে যত ধরনের সেবা রয়েছে, তার সবগুলোর ওপরই এই সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ সালের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সারচার্জ আরোপের কথা বলেছিলেন। এ থেকে যে টাকা পাওয়া যাবে তা শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হবে বলে অভিমত দিয়েছিলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, মাত্র ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হলে তা কারও জন্য অধিক কর ভার হিসেবে বিবেচিত হবে না। এ থেকে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া সংসদে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবমূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল-২০১৫ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (সংশোধন) বিল-২০১৫ সংসদে উত্থাপিত হয়। বিল দুটি উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। উত্থাপনের পর দুটি বিল পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন বিলে বলা হয়েছে, এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন ছাড়া কোনো এনজিও বা সংস্থা বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। একই কাজে ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। তবে ব্যুরোর অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, একটি এনজিও ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন পাবে। কেউ আইন অমান্য করলে নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে। এনজিওতে বিদেশি উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড় নিতে হবে। বিদেশি অনুদান একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে (মাদার অ্যাকাউন্ট) থাকতে হবে। ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করার পর এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে দিতে হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশি অনুদান নিতে পারবে না।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (সংশোধন) বিলে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় তথ্য প্রযুক্তি শিল্প স্থাপন করার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, সরকার বিদেশের সঙ্গে পারস্পরিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
এর আগে বিকেল ৫টার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের সপ্তম অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
বিল উত্থাপন শেষে সংসদের অধিবেশন কাল বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

