শাবি প্রতিনিধি : উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়ার অপসারণ দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকেরা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছে। সেই সঙ্গে কালো ব্যাজ ধারণ করে র্যালি ও সমাবেশ আয়োজন করে এ ফোরামের শিক্ষকেরা।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের এ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা।
র্যালি পরবর্তী সমাবেশে বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ, অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক আবদুল গণি ও অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ অর্ধ-শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।
ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলমের সভাপতিত্বে এবং শাবির শিক্ষক সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মস্তাবুর রহমান, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ, অধ্যাপক আবদুল গণি, অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামান ও সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল হক প্রমুখ।
হামলার ঘটনার নিন্দা এবং উপাচার্যের বিচার দাবিতে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে। আর তা নাহলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দেব। তাই সরকারের কাছে আহ্বান আপনি অতি শীঘ্রই উপাচার্যকে সরিয়ে নিন এবং আমাদের কঠোর কর্মসূচিত নিতে বাধ্য করবেন না।’
উপাচার্যের সঙ্গে যে সব শিক্ষক আছেন, তাদেরকে খোন্দকার মোস্তাকের সঙ্গে তুলনা করে বক্তারা।
গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় র্যালি-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বদ্ধ শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকেরা।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচি হিসাবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন করবেন বলে আবারো ঘোষণা দেন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম।
গত ২৪ আগস্ট আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন নির্দেশনাসহ একটি চিঠি আসায় ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্ট্যাডিস ও বিকেল ৩টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকেন উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া।
আর এই সভা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে, শিক্ষকদের ঘোষিত আন্দোলন প্রতিহত করতে সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নেয় সাধারণ শিক্ষর্থীদের নামে ছাত্রলীগ। পরে সকাল ৭টায় আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাস্থিত হলে ছাত্রলীগের সঙ্গে বাক্বিতন্ডা হয়। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ব্যানার টানাটানির পেক্ষিতে সাতজন শিক্ষক আহত হন।
উপাচার্য আমিনুল হকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ১৩ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক ফোরাম। পরে ভিসির প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি পদ থেকে লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ৩৫ জন শিক্ষক একযোগে পদত্যাগ করেন।
তবে গত ২৩ এপ্রিল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ভিসি দুই মাসের ছুটিতে গেলে তাদের আন্দোলন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মের ছুটি শেষে গত ১৮ জুন আবার আন্দোলন শুরু করেন এ ফোরামের শিক্ষকরা।
এরপর গত ২২ জুন ভিসি ক্যাম্পাসে এলে ভিসি ভবনে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এমনকি নানা অভিযোগে ভিসির বিরুদ্ধে ২৫ জুন শ্বেতপত্র প্রকাশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা।
গত ২৩ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকরা’ ফোরামের শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা শেষে মন্ত্রীর অনুরোধে আন্দোলনরত শিক্ষকরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
তবে ২৪ জুলাই শাবি উপাচার্যের সঙ্গে এবং ৬ আগস্ট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কবির হোসেন এবং ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ ফোরামের’ আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আকতারুল ইসলামের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষামন্ত্রী আলোচনা করেন।
তবে উপাচার্য যতদিন পর্যন্ত পদত্যাগ না করবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকরা।

