বিনোদন ডেস্ক : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুধু মিছিল মিটিং নয়, মন লেনাদেনার কাজও হয়। তেমনই এক গল্পের খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেলো দেখা মিললো চারুকলায় পড়ুয়া এক যুবকের সঙ্গে সাইকেলে বসে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে একটি মেয়ে। দু’জনের খুনশুটি আর গল্পে চারপাশের প্রকৃতি তখন হাসছে। এরই মধ্যে ঘটলো বিপত্তি, পাশে থেকে কেউ একজন বলে উঠলেন ‘সবাই রাস্তা থেকে সরে যান। ভাই, এখানে প্রেমটেম কিচ্ছু না… আমাদেরকে কাজটা করতে দেন’।
পরিবেশটা হঠাৎ করেই পাল্টে গেল। রাস্তার পাশে একটি মাইক্রো বাস এসে থামল। সাইকেলে বসে থাকা ছেলে মেয়ে দুটো অমনি প্রেমলীলায় ভঙ্গ দিয়ে তাতে চড়ে বসল। সাহস করে কয়েক কদম সামনে গিয়ে উঁকি দিয়ে বিষয়টা বুঝার চেষ্টা করলাম। ঠিক তখন চোখ আটকে গেলো মাইক্রো বাসের কাচের উপরে সাঁটানো স্টিকারটা দেখে, তাতে লেখা ‘শুটিং ইউনিট’। বুঝার বাকি রইলো না এখানে সত্যি সত্যি প্রেম নয়, শুটিং চলছে।
কৌতুহলটা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। রঙিন দুনিয়ার খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, এখানে আমজাদ মাহমুদের পরিচালনায় ‘স্পেশাল ম্যারেজ এ্যাক্ট’ নাটকের শুটিং চলছে। নিগার সুলতানার রচনায় এতে চারুকলায় পড়ুয়া যুবকের চরিত্রে মনোজ কুমার আর তার বিপরীতে হবু চিকিৎসকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন পিয়া বিপাশা। হঠাৎ পরিচালকের দেখা মিললো। তার কাছে নাটকের আদ্যোপান্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুইটি তুরণ তরুণীর প্রেমের গল্প নিয়ে নাটকটি তৈরি করছি। যেহেতু প্রেমের নাটক, তাই তাদের ডেটিং স্পট হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বেছে নিয়েছি।’
পরিচালকের সঙ্গে কথা শেষ হতে না হতেই তার সহকারি এসে জানালেন, এখন ছবির হাটের সামনে দশ্যধারণ করা হবে। পুরো ইউনিট যাত্রা করলো সেদিকে। কিন্তু ঝামেলা বাঁধালেনে পুলিশ মামারা। অগত্যা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন পরিচালক আমজাদ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় মিললো ফুলার রোডে।
চিকিৎসকদের সাদা এপ্রন হাতে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে, বারবার ঘড়ি দেখছে। চারপাশে কত অচেনা মুখ ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু প্রত্যাশিত মানুষটির দেখা নেই। কিন্তু না, মেয়েটির ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিলো। মিনিট বিশেক পরেই পিঠে ব্যাগ আর হাতে ক্যানভাস নিয়ে শান্ত ভঙ্গিতে মেয়েটির সানে এসে দাঁড়ালো ছেলেটি। অমনি শুরু হলো দু’জনের প্রেম লেনাদেনা। দূর থেকে পথচারিরা বুঝতে পারলো, ছেলেটি মান ভাঙ্গাতে অনেক কিছুই বলছে, কিন্তু মেয়েটি তাতে খুব একটা সাড়া দিচ্ছে না।
শুটিং দেখতে দেখতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল। সূর্যটা তখন ডুবতে শুরু করেছে। তাই পরিচালক ‘প্যাক আপ‘ বলে আজকের মতো কাজ শেষ করলেন। কিন্তু আমাদের তো অনেক কিছুই জানার বাকি। ছুটে গেলাম, নাটকের পাত্র পাত্রির কাছে। দেখেই চিনতে পারলেন নাটকের প্রেমিক পুরুষ মনোজ। বললেন, ‘পিয়ার সঙ্গে এটা আমার চতুর্থ কাজ। আশা করছি দর্শকরা নাটকটি দেখে পরিপূর্ণ প্রেমের স্বাদ নিতে পারবে।’
অন্যদিকে পিয়া বিপাশা বললেন, ‘স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কাটুস কুটুস’ এ মনোজের সঙ্গে কাজ করেছিলাম। সেই থেকে পরিচালক আমাদের দুজনকে একসঙ্গে নিতে চায়। তাই এবারেও কাজটিও সহজ ভাবে করে ফেললাম। আশা করছি, নাটকটি দেখে সবার ভাল লাগবে।‘

