ঢাকাTuesday , 1 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যবসায়ীদের দুই জিজ্ঞাসা

Link Copied!

bciঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নেই, এ অভিযোগ করে সরকারের কাছে দুটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের প্রশ্ন- গ্যাস সংযোগের জন্য যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ডিমান্ড নোট দেওয়া হয়েছে, তাদের কবে সংযোগ দেওয়া হবে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কবে নাগাদ চালু হবে?
মঙ্গলবার দুপুরে মতিঝিলে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআই) আয়োজিত ‘শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার পথে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে এসব প্রশ্ন করেন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। কিন্তু এসব প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।
সভায় এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি ও বিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘শিল্প উদ্যোক্তাদের গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হয়েছিল।  চাহিদাপত্র পেয়ে উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে শত শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি করেছেন। কিন্তু সংযোগ দেওয়া নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায় এখন উৎপাদনে যাওয়ার সময় গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমান্ড নোট ইস্যু করা  কারখানায় কবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে? উদ্যোক্তাদের এভাবে বসিয়ে রাখা কোন ধরনের আচারণ? কার ওপর নির্ভর করে  আমারা বিনিয়োগ করব?’
এ সময় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সারা দেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে- এমন কথা বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এ কাজ কবে শেষ হবে।’
জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরেক ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুর রহমান আলোচনাসভায় সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা বার বার বলছেন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। কোথায় হচ্ছে? কবে হচ্ছে? অন্তত চার-পাঁচটি বিশেষ অঞ্চল করে দেখান।’
শিল্প উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন প্রয়োজন না হলেও উদ্যোক্তাদের কমপক্ষে ১৭টি সরকারি দফতরের অনুমোদন নিতে হয়।
তারা বলেন, দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে, শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। শিল্পকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে সময় বাঁচাতে তারা শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর পরামর্শ দেন।
বিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম। এতে এফসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ, বিপিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, বিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু ও বিসিআইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল আলোচনায় অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গতি আসছে না। তারা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে লক্ষ্যে দ্রুত দেশীয় কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তাগিদ দেন। বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ ও এলএনজি আমদানির ফলে বাংলাদেশ থেকে বিরাট অংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।
তারা শিল্পায়ন প্রক্রিয়া জোরদারের লক্ষ্যে আগামী ২০ বছরের জন্য শিল্পায়নের একটি রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ২০১৫ সালের জাতীয় শিল্পনীতি ঘোষণার পর একে আইনে পরিণত করারও সুপারিশ করেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে সরকার বিসিক শিল্পনগরীগুলো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলছে। এসব শিল্পনগরী ও অর্থনৈতিক জোনে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। দেশে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
গ্যাসনির্ভর শিল্পায়নের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন শিল্পমন্ত্রী।
আমির হোসেন আমু বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব শিল্পকারখানার অব্যবহৃত জমিতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হলে শিল্প মন্ত্রণালয় স্বাগত জানাবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা সরকারের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগেও শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসতে পারে। তিনি বিসিআইসি, চিনি শিল্প করপোরেশনসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কারখানাগুলো পরিদর্শন করে এ বিষয়ে সমন্বিত প্রস্তাব পেশের জন্য উদ্যোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৫ ঘোষণার পর শিল্পায়নের স্বার্থে একে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে তিনি জানান।