নিজস্ব প্রতিবেদক : মিয়ানমারের বিচ্ছিনতাবাদী সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’র বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য শক্তি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। শুরুর দিকে সেনাবাহিনীর ৩ প্লাটুন ও বিজিবির ২ প্লাটুন সদস্য অভিযান পরিচালনা করে। দু’দিন পরই বাংলাদেশ আভিযানিক শক্তি বাড়াতে ১৭ প্লাটুন সদস্য অভিযানে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডারগার্ড পুলিশও (বিজিপি) ‘আরাকান আর্মি’দের বিরুদ্ধে অভিযানিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা শুরু করেছে। এই সংগঠনকে নির্মুল করার আগ পর্যন্ত এ অভিযান থামবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিজিবি মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘সীমান্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে বিজিবি ও সেনা সদস্য বাড়ানো হয়েছে। কতদিন এ অভিযান অব্যাহত থাকবে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে আরাকান আর্মিদের নির্মুল না করা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার সকালে ২০ জন বিজিবি সদস্যর একটি দল বান্দরবানের থানচির সীমান্তের বড় মোদক এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় পাহাড়ের উপর থেকে আরাকান আর্মিরা তাদের ঘিরে ফেলে অতর্কিতে গুলি চালায়। এ সময় বিজিবি সদস্যরাও পাল্ট গুলি করে। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের হেলিকপ্টারে করে পাঠানো হয় ওই এলাকায়। তারা পৌঁছানোর আগেই বিজিবি সদস্যরা তাদের সঙ্গে গোলগুলি করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এ সময় বিজিবির দু’জন আহত হন।
বিজিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর পরই সেনাবাহিনীর ৩ প্লাটুন ও বিজিবির ২ প্লাটুন সদস্য থানচি এলাকায় অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর ২ ও বিজিবির ১০ প্লাটুন সদস্য যোগ দেয় অভিযানে। সব মিলিয়ে ১৭ প্লাটুনে ৫১০ জন সেনা ও বিজিবি সদস্য অভিযান পরিচালনা করছে সীমান্ত এলাকায়। গত বুধবার রাতে রাজস্থলীর নয়াপাড়ার কলেজ রোডের একটি বাড়ি থেকে আরাকান আর্মির পোশাক ও ঘোড়াসহ অংওয়েন নামের একজনকে আটক করা হয়। এরপর গত শুক্রবার রাজস্থলীর দুটি স্থান থেকে আটক করা হয় চসুই অং মারমা ও মংসোয়াং মারমা নামের দু’জনকে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমন্তের দুর্গম এলাকায় এখন চিরুনী অভিযান চালাচ্ছে বিজিবি, সেনা বাহিনীর সদস্যরা। প্রস্তুত আছে বিমানবাহিনীও। প্রয়োজন হলে হেলিকপ্টারেও অভিযান চালানো হবে।
প্রথমবারের মতো আরাকান আর্মির মুখোমুখি হয়েছে বিজিবি। গত বুধবার গোলাগুলির আগ পর্যন্ত তাদের দেখা পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে বিজিবির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাবিবুল করিম বলেন, ‘অভিযান অব্যাহত আছে। থাকবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার বিজিবির উপর হামলা করার পর থেকেই বিজিবি, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুর্গম এলাকায় অভিযান শুরু করে। বাংলাদেশের তরফ থেকে অভিযান শুরুর পর গত শুক্রবার থেকে সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শক্তি বাড়িয়েছে। সে দেশের সীমন্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনাবাহিনী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে তাদের এলাকায় অভিযানিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, যে এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে সেটি খুবই দুর্গম। ক্যাম্প থেকে সীমান্ত পর্যন্ত হেঁটে যেতে ২-৩ দিন লেগে যায়। জঙ্গলের ভেতরে এমন অবস্থা যে, দিনের বেলায়ও আলো ফেলে হাঁটতে হয়। এমন দুর্গম এলাকায় অভিযান চালানো কষ্টসাধ্য বিষয়। এরপরও আরাকান আর্মিকে নির্মূল করতে চিরুনী অভিযান চলছে।
তিনি আরো জানান, মিয়ানমার আর্মি ও বিজিপি যোগ দেয়ায় সুবিধা হচ্ছে। এখন আর এদিকে অভিযান টের পেয়ে মিয়ানমারের অংশে চলে যেতে পারবে না। ফলে সহজেই তাদেরকে নির্মূল করা যাবে।
অন্যদিকে আরাকান আর্মির নেতৃত্বদানকারী রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা ডা. রান নিন সোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।

