পাঞ্জেরী ডেস্ক : আজ ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব দ্য ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেন্স’ অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের জরুরি ভিত্তিতে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। গুম হওয়া মানুষকে অবিলম্বে খুঁজে বের করার জন্য বৈশ্বিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময় নষ্ট না করে এখনই তা করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
জাতিসংঘের কমিটি অন এনফোর্ডস ডিজঅ্যাপিয়ারেনসেস এবং দ্য ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেনসেস এই বিবৃতি দিয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে খসড়া চুক্তি করাসহ পদ্ধতিগতভাবে সব রকম ব্যবস্থা নিতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই বছরে সারা বিশ্বে মোট ২৪৬টি গুমের ঘটনা নিয়ে তারা কাজ করেছে। এতে পরিষ্কার ধারণা মেলে যে, এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের চর্চা অনেকগুলো দেশেই চলছে। হাজার হাজার এ রকম ঘটনার মধ্যে এ সংখ্যাটা সামান্যই। বাকি ঘটনাগুলোর কথা প্রতিশোধ ও নিরাপত্তার ভীতির কারণে কখনো রিপোর্ট করা হয় না।
জাতিসংঘ ২০০২ সাল থেকে কাজ শুরু করে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ তৈরি করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এই আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয়; তাতে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, গত আড়াই বছরে এ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৭৭ জনকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে এখনো ১১০ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এসব ব্যক্তির বেশির ভাগকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেন, এই অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ধরনের গুমের বিষয়ে আসকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৩৬ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ছয়জনের লাশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া দুজন ছাড়া পান, তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি ২৫ জন নিখোঁজ আছেন। ২০১৪ সালে অপহৃত ৮৮। ২৩ জনের লাশ পাওয়া যায়, মুক্তি পান ১২। র্যাব গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে সাতজনকে, গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাওয়া যায় একজনকে, দুজনকে জেলে পাঠানো হয় আর একজনকে থানায় পাওয়া যায়। খোঁজ মেলেনি ৪২ জনের। ২০১৩ সালে অপহরণের শিকার ৫৩। পাঁচজনের লাশ উদ্ধার হয়, তিনজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় আর দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিখোঁজ ৪৩।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, ‘হত্যার মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন একটা সমাপ্তিতে পৌঁছান। কিন্তু গুম হলে তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। এতে স্বজনেরা বিপর্যস্ত ও অসহায় বোধ করেন। অনেকটা সময় ধরে এই কষ্ট চলতেই থাকে। তারা নিজেরাও এতে অসহায় ও নিরাপত্তাহীন বোধ করেন।’ তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে যদি গুমের অভিযোগ ওঠে, তাহলে রাষ্ট্রকে অন্য সব অপরাধের মতো এটিও খতিয়ে দেখতে হবে। গুমের মতো অভিযোগ রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে হবে।

