স্পোর্টস ডেস্ক : নিজভূমে আরেক দফা অপমানিত হলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তণ সভাপতি ও আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসন। তিনি সভায় ঢুকে পড়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং বন্ধ করে দেওয়া হলো। আপাতত ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বলেই মুলতুবি করা হলো এই সভা! বিষয়টি লজ্জাকর হলেও সেই লজ্জা নাকি গায়েই মাখেননি শ্রীনি !
সমালোচকরা শ্রীনির এই অপমান নিয়ে বলল অনেক বাঁকা কথাও। এই তামিল ব্রাহ্মণকে নিয়েই নাকি যত ঝামেলা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে নাছোড়বান্দা বেঁটেখাটো মানুষটিকে নিয়ে নাকি বিতর্কেরও আর শেষ নেই।
কলকাতায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির এই সভাটি হচ্ছিল শুক্রবার। শ্রীনিবাসন বীরবিক্রমে ঢুকে পড়লেন বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির এই বৈঠকে। আর স্মরণকালে যা হয়নি তাই ঘটল এইদিন। কলকাতা যা দেখল তা বোর্ডের ইতিহাসে নজিরবিহীন হয়ে থাকল। ডালমিয়া পরিস্কার জানিয়ে দিলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কিছুতেই এন শ্রীনিবাসন বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। পাল্টা শ্রীনি শিবির যুক্তি দেখাল, শ্রীনির কাছে সভায় যোগ দেওয়ার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তিনি সভায় থাকতেই পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্রীকৃষ্ণের চিঠি নিয়ে এসেছিলেন শ্রীনি। যেখানে লেখা ছিল, তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে শ্রীনিবাসনের সভায় যোগ দেওয়ায় কোনও অসুবিধে নেই। তাও কাজে আসেনি। সভা মুলতুবি হয়ে গেল অনির্দিষ্টকালের জন্য!
জানা যায়, ওই সভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই শ্রীনিবাসনের সভায় যোগদান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রথমে শ্রীনিবাসনের সভায় ঢোকা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত বাদানুবাদে পাঁচ মিনিটেই সভা মুলতুবি ঘোষণা হয়ে যায়।
যাকে ঘিরে এই বাকবিত-া সেই শ্রীনিবাসন কিন্তু নিজের ফর্মেই থেকে গেলেন। দেখে মনে হবে, যেন কোনও কিছুই ঘটেনি। সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলেন তা শুনে মনে হল যেন কিছুই ঘটেনি। বললেন- ‘আমি বৈধ কাগজ নিয়েই কলকাতায় এসেছিলাম। আমাকে তা সত্ত্বেও সভায় বসতে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হল। বোর্ড সভাপতি মিটিং মুলতুবি ঘোষণা করেছেন। এটা বোর্ড সভাপতি পারেন। আমার কাছে বোর্ড ব্যাখ্যা চেয়েছে। আমার সভায় ঢোকার বৈধতা আছে কি নেই। আমার কোনও সমস্যা নেই। আমি সব ব্যাখ্যা দিয়ে দেব। আমার এতটুকু সমস্যা হবে না।’

