সিলেট প্রতিনিধি : ব্লগার ও মুক্তমনা লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছে সিআইডি কর্মকর্তা মীর্জা আব্দুল্লাহ আল বাকী। তিনি বলেছেন, তদন্তকাজ শেষ করে খুব শিগগরই চার্জশিট দেয়া হবে।
শুক্রবার রাত ৯টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাকী। অনন্ত হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাওয়ার পর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাটের পূর্ব পালজুর গ্রামের হাফিজ মইনুদ্দিনের ছেলে মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহী ও তার ভাই মোহাইমিন নোমান ওরফে এএএম নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে সিলেট মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে তাদের ১৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল বাকী।
গত ১২ মে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে নিজ বাসা থেকে কয়েকশ গজ দূরে দুর্বৃত্তদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে খুন হন অনন্ত বিজয় দাশ। পূবালী ব্যাংকের ছাতক শাখার কর্মকর্তা অনন্ত ওইদিন অফিসে যাওয়ার জন্যই বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। কয়েকশ গজ যাওয়ার পর ৪ জন তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।
অনন্ত হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর এর দায়ভার আল কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার উপর চাপিয়ে আনসার বাংলা ৮ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে টুইট করেছিল।
এরপর ১৩ মে অনন্ত বিজয় দাশের নিহতের বড় ভাই রতেশ্বর দাশ বিমানমন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসমি করে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং ১২) দায়ের করেন। পরে ওই মামলার তদন্তভার দেয়া হয় বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল আলমকে। কিন্তু সিলেট পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
গত ৭ জুন রাতে সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেটের ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। বর্তমানে ইদ্রিস আলী ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিআইডি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিকের ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে রিমান্ডে নিয়ে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বাকী আরো জানান, অনন্ত বিজয় হত্যা মামলার ইদ্রিস আলী, মান্নান, নোমান এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় অন্যান্য ব্লগার হত্যার দায়ে আটক পাঁচজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুমকন উদ্দিন, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার রহমত উল্লাহসহ র্যাব, পুলিশ ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

