নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মাত্র ১ শতাংশ এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাস্তবায়ন হয়েছে। আলোচ্য মাসে সব মিলিয়ে এডিপির মাত্র ৭১৪ কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়ন ব্যতিত এই ব্যয়ের পরিমাণ ৬০৭ কোটি টাকা। যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পসহ চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার ১ লাখ ৯৯৭ কোটি টাকা। তবে মূল এডিপির আকার ৯৭ হাজার কোটি টাকা। জুলাই মাসে মূল এডিপির মাত্র ৬০৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। গত অর্থবছর ও এর আগের অর্থবছরে জুলাই মাসে যথাক্রমে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা ও ১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে সরকারি অর্থায়ন ব্যয় হয়েছে ১০৯ কোটি, প্রকল্প সাহায্য ৪৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হয়েছে ১০৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় এসব ব্যয়ের পরিমাণও কম।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানান, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩ শতাংশ। এরপরের অর্থবছরগুলোতে প্রথম মাসে ২ বা ৩ শতাংশ হারে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এই হার মাত্র ১ শতাংশ।
আইএমইডি’র সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অর্থবছরের প্রথম মাসে ২০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের এডিপি বাস্তবায়নের কাজ শুরুই করতে পারেনি। ১০ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে মাত্র দুটি বিভাগ। এগুলো হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ৩৫ শতাংশ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ইসি মাত্র ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৯৬ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা। এক মাসে ইসি ৩৩ হাজার ৯৬৯ কোটি ৬৮ ব্যয় করেছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগ ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৭ শতাংশ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৫ শতাংশ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৪ শতাংশ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগ ৩ শতাংশ করে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২ শতাংশ হারে এডিপি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। এর বাইরে মাত্র ১ শতাংশ হারে এডিপি বাস্তবায়ন করেছে ৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। বাকি ১৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বাস্তবায়নের কাজ মাত্র শুরু করেছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নও ১ শতাংশের বেশি হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের ১৬ হাজার ৫২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম মাসে মাত্র ৮৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় করতে পেরেছে। যা মোট বরাদ্দের মাত্র ১ শতাংশ। এ বিভাগের জন্য মোট এডিপির ১৬ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এখনো তাদের এডিপি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পারেনি। এ মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৯৬৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যা মোট এডিপির ৩ শতাংশ। কিন্তু মন্ত্রণালয়টি বরাদ্দপ্রাপ্ত ৫০টি প্রকল্পের এখনো কাজই শুরু করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (ডিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, প্রতি অর্থবছরের শুরুতে এডিপি বাস্তবায়নের হার এমনই থাকে। ধীরে ধীরে এই হার বাড়বে।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি আনার কৌশল নির্ধারণে গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। শতভাগ এডিপি বাস্তবায়নের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। আমরা আশা করছি চলতি অর্থবছরের শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

