স্পোর্টস ডেস্ক : লিটন দাস নাকি মুশফিক? নাকি দুজনেই? প্রশ্ন দুটির সঙ্গে সৌম্য সরকারের টেস্ট খেলার প্রসঙ্গ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রথম প্রশ্নটির উত্তর যদি দ্বিতীয় প্রশ্নটি হয়-দুজনেই, তাহলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও খেলা হচ্ছে না সৌম্য সরকারের!
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মূল একাদশ ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেউ ভাবতে পারেনি সৌম্যকে রাখা হবে না। নির্বাচকরা তখন বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন, কম্বিনেশনের প্রয়োজন হিসেবে। মুমিনুলের অবচেতন মনে যেমন ঢুকে গেছে (ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছেও বলা যেতে পারে) তিনি ওয়ানডে খেলতে পারেন না, ঠিক তেমনি সৌম্যর কথা বার্তায়ও এখন টের পাওয়া যায়, তিনি টেস্টের উপযোগী নন।
গতকাল মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, ‘আমি টেস্টে নিজেকে এখনো প্রমাণ করতে পারিনি।’ এই কথাটা সৌম্য একবার বলেননি, যতগুলো প্রশ্ন তাকে করা হয়েছে, তার অধিকাংশগুলোতে বলতে চেয়েছেন তিনি টেস্টে এখনো নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। সুযোগ পেলে প্রমাণ করবেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাদশ নিয়ে নির্বাচকরা হয়তো এখনই ভাবছেন না। তবে সৌম্যর ব্যাপারটা সবার মাথায় আছে। বিসিবির এক কর্মকর্তা বললেন, ‘তিনটি টেস্টে সৌম্যকে অলরাউন্ডার হিসেবে খেলানো হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা চার বোলার খেলানোর কথা ভাবছি। ওদিকে আবার লিটনকে ছাড়াও সম্ভবত হবে না। তাই এখনি সৌম্যকে না খেলানো হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে ও আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনায় আছে।’
সৌম্য যে তিন টেস্টে খেলেছেন, তাতে রান করতে পেরেছেন ১০৭। কিন্তু ওয়ানডেতে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। আইসিসির সর্বশেষ র্যাংকিংয়ে ৬৭১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওডিআইতে ১৫ নম্বরে আছেন। ওয়ানডের এমন সাফল্যে অনেকেই সৌম্যকে টেস্টে দেখতে চান।টেস্টে নিজেকে নিয়ে সংশয়ের কথা বললেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি খেলতে উদগ্রীব। গতকাল তেমনটাই বললেন, ‘আমি সব সময় খেলার অপেক্ষায় থাকি। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের একটি ম্যাচ ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা হয়নি। এখন দেশের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্টে খেলতে মুখিয়ে আছি।’
সৌম্য মুখিয়ে থাকলেই হবে না। সব কিছু ঠিক ঠাক না থাকলে, তবেই তিনি অজিদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাবেন। এই ‘ঠিক ঠাক না থাকা’ বলতে ইমরুল-তামিমের যে কারো বাদ পড়া। তামিমের হালকা ইনজুরির সমস্যা আছে। তবে অস্ট্রেলিয়া আসার আগে ঠিক হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌম্য নিশ্চয়ই চাইবেন না, আরেক ওপেনার ইমরুলের কপালে নেমে আসুক দুর্ভাগ্য!

