নিজস্ব প্রতিবেদক : বাস্তবায়িত হয়নি ফুলবাড়ী চুক্তি। পিছু ছাড়েনি সাম্রাজ্যবাদের কালো থাবা। কুখ্যাত এশিয়া এনার্জি বিতাড়িত হয়নি। ফুলবাড়িকে নিয়ে এখনো ব্যবসা করছে বৃটিশ বেনিয়াদের কোম্পানিটি। ঐতিহাসিক ফুলবাড়ি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
রাজাধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুধবার জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এর আগে ফুলবাড়ি আন্দোলনের শহীদ তরিকুল, আল-আমীন, সালেহীন-এর স্মৃতি প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, চুক্তির এক নম্বর দাবি ছিল এশিয়া এনার্জিকে বিতাড়ণ করা হবে এবং দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হবে না। এই দফা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং এশিয়া এনার্জি নাম পরিবর্তন করে জিএমএম নামে ফুলবাড়ীর খনির ইজারা দেখিয়ে লন্ডনের শেয়ার বাজারে ব্যবসা করছে। আর ওই শেয়ার ব্যবসার একাংশ দেশের দালাল মন্ত্রী, আমলাদের পেছনে ব্যয় করছে।
বক্তারা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি দাড় করানো হয়নি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটি’র আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সংগঠক নূর মোহাম্মদ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স। খালেকুজ্জামান, প্রকৌশলী বিডি রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক এম এম আকাশ, ড. শামসুল আলম, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, সাইফুল হক, বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তরা বলেন, ২০০৬ সালে সংগঠিত ফুলবাড়ি আন্দোলনে পর ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে সভা করেন। এসময় তিনি ফুলবাড়ীর চুক্তির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে ক্ষমতায় গেলে চুক্তি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেন নি। বরং তার আমলা মন্ত্রীরা প্রায়শই উন্মুক্ত খনির পক্ষে সাফাই গায়। চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।
জাতীয় সম্পদ লুটপাটের দেশি-বিদেশি চক্রান্ত নস্যাৎ করেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে বলে দাবি করেন বক্তারা।
প্রসঙ্গত, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ ওই অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ উচ্ছেদ, আবাদী জমি, পানি, পরিবেশ ধ্বংস করে, মাত্র ৬ শতাংশ রয়ালিটির বিনিময়ে অনভিজ্ঞ এশিয়া এনার্জিকে পুরো খনির মালিকানা দেওয়া ও কয়লা বিদেশে রপ্তানির সুযোগ দেয় তৎকালীন বিএনপি জোট সরকার। এ চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষসহ দেশবাসী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে বিনা উসকানিতে গুলি করে তিনজনকে হত্যা ও শতাধিক মানুষকে আহত করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তীব্র আন্দোলনের মুখে ৩০ আগস্ট তৎকালীন সরকার বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে দফা চুক্তি করতে বাধ্য হয়।
ফুলবাড়ী দিবসে বিভিন্ন সংগঠন দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ, শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছে।

