স্পোর্টস ডেস্ক : রমেশ কালুভিথরানা। উইকেটরক্ষক এবং ব্যাটসম্যান। ৯০’র দশক থেকে শ্রীলংকার ক্রিকেটে এমন একটা স্থানে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেছিলেন, যাতে মনে করা হয়েছিল, তার বিদায়ে বড় ধরনের একটা ক্ষতি হয়ে যাবে লংকান ক্রিকেটের। তার স্থান কোনভাবেই পূরণ হওয়ার মত নয়।
কিন্তু ২০০০ সালে যখন কালু (কালুভিথারানার ডাক নাম) অবসরের ঘোষণা দেন, তার স্থানটি দখল করেন এক তরুণ। ২২ বছর বয়সী ওই তরুণ আর কালুর অভাব কোনভাবেই বোধ হতে দেননি। তিনি কুমার সাঙ্গাকারা।
২০০০ সালের পর পরবর্তী ১৫ বছর নিজেকে শুধু একটা উচ্চতায় নিয়ে যাননি সাঙ্গাকারা, লংকান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। ছিলেন শ্রীলংকার সবচেয়ে বড় দূত।
১৫ বছরের সফর শেষ করে ফেলেছেন কুমার সাঙ্গাকারাও। ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিজের নাম লিখিয়ে, সাঙ্গাকারা হয়ে গেলেন কিংবদন্তী। ২৪ আগস্ট শেষ হয়ে গেলো সাঙ্গাকারার অভিযানও। এবার প্রশ্ন হলো, সাঙ্গা পরবর্তী কোন পথে হাঁটবে শ্রীলংকার ক্রিকেট? কে হবে লংকানদের ক্রিকেট দূত!
প্রাথমিক একটা উপায় অবশ্য বাতলে দিয়েছেন কিংবদন্তী কালুভিথারানা নিজেই। ‘সাঙ্গাকারার ঘাটতি পূরণ করার জন্য লংকান বোর্ডের উচিৎ হবে এখনই সম্ভাবনাময়ী ক্রিকেটারদের থেকে এমন একটি গ্র“পকে বেছে নেয়া, যেখান থেকে সত্যিই একটা-দুটা প্রতিভা বের হয়ে আসবে। তাহলেই সম্ভব হব এ ঘাটতিটা খুব দ্রুত কাটিয়ে ওঠা।’
সাঙ্গাকারার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, দলের যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরতে পারা। এ কাজটি খুবই ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারতেন তিনি। এমনকি দলের ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় কখনও তাকে এতটুকু বিচলিত হতে দেখা যেত না। এ কারণেই ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেকের পর একটানা ১৫টি বছর খেলে গেছেন লংকান জাতীয় দলে।
শুধু তাই নয়, লংকানদের অধিনায়ক হওয়ার পর তার দায়িত্বটা বেড়ে গিয়েছিল কয়েক গুণ। তার অধীনেই ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল শ্রীলংকা। সব সময় প্রতিপক্ষের বোলারদের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে ব্যাট করাকে তিনি অনেকটা অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। সাঙ্গাকারার মতো এতো বড় একট নক্ষত্র লংকার আকাশ থেকে খসে পড়ায় অনেকটা অসায়হত্ব বোধ করছে সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডও।
কারণ তার মতো ব্যাটিংয়ে এতোটা দায়িত্ব নিয়ে খুব কম ক্রিকেটারই খেলে থাকেন বলে মানছেন ক্রিকেট-বোদ্ধারা। সবসময়ই সাঙ্গাকারা চিন্তা করতেন কিভাবে নিজের ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতি ঘটানো যায়। তার ক্রিকেট স্পিরিট দেখে অনেক দেশেরই তারকা ক্রিকেটারদেরও হিংসা হতো।
বিশ্বকাপের পরই ওয়ানডে ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়েছিলেন। এবার জানালেন টেস্ট ক্রিকেটকে। সাঙ্গাকারার মত একজন ক্রিকেটারের বিদায়ে কিছুটা হলেও হোঁচট খাবে লংকান ক্রিকেট বোর্ড। কারণ তার মতো এমন দায়িত্ববান ব্যাটসম্যানের বিকল্প খুঁজে পেতে হয়তো অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডকে।
যে কোন ক্রিকেটারকেই বিদায় নিতে হয় একটা সময়ে এসে। সেই সিনিয়রের বিদায়ে যে একটা ট্রানজিশনাল পিরিয়ড তৈরী হয় সেটা কাভার করে আনতে দায়িত্ব নিতে হয় দলে থাকা অন্য সিনিয়র ক্রিকেটারদের।
সাঙ্গাকারাও মনে করেন তার জায়গাটি পুরণ করার মতো বর্তমানে শ্রীলংকা দলে অনেকেই আছেন। যারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ ঘাটতি পূরণ করে নেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
বিশেষ করে লংকান স্কোয়াডে এখন অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার আছেন। তাদেরই একটু বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন লংকান সাবেকরা। যেমন, এই দলটিতে রয়েছেন, রঙ্গনা হেরাথ, জিহান মুরাবক এবং উপুল থারাঙ্গার মতো সিনিয়র ক্রিকেটার।
তারা কিন্তু এ বয়সেও শ্রীলংকার জয়ের পেছনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। যদিও কারও কারও মতে, সাঙ্গাকারার দায়িত্ব পালন করার মত কোন ক্রিকেটার লংকান দলটিতে এখন আর নেই।
তবুও রমেশ কালুভিথারানার মত সাবেক ক্রিকেটার সাঙ্গাকারার বিদায়ে তাৎক্ষনিক যে ক্ষতিটা হবে, তা পুষিয়ে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান দলে থাকা কাউকে সাঙ্গাকারার দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে হবে বলেও মনে করেন কালু।

