স্পোর্টস ডেস্ক : তার দেড় দশকের ক্যারিয়ারে এতটুকু কালিমা নেই। আপাদমস্তক ভদ্রলোক। কুমার সাঙ্গাকারার প্রশংসা ঝরছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায়। ক্রিকেটকে যা দিয়ে গেছেন লংকান কিংবদন্তি তাতে প্রশংসা তার প্রাপ্যই। কিন্তু বাবার চোখে সাঙ্গাকারা কেমন?
তা জানতে চেয়েছিল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। সেখানে ছেলেকে নিয়ে নাতিদীর্ঘ কলাম লিখেছেন সাঙ্গাকারার বাবা কেশমা সাঙ্গাকারা। সাঙ্গাকারার বাবা সেখানে লিখেছেন, তিনি না কি বুঝতে পারতেন তার ছেলে কখন আউট হবেন! ‘ছেলেকে ব্যাট করতে দেখলে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতাম। সত্যি করেই বলছি, আমি আগে থেকেই বুঝতে পারতাম ও কখন আউট হতে যাচ্ছে। এটা অনুমাননির্ভর হতে পারে, তবে কখনও ভুল হয়নি। এ কারণে আমি আরও স্নায়ুচাপে ভুগতাম। কোনও কোনও সময় এক ওভার আগেই বুঝতে পারতাম ও আউট হতে যাচ্ছে।’
এ জন্য ছেলের খেলা মাঠে গিয়ে দেখতে চাইতেন না কেশমা সাঙ্গাকারা, ‘সে যখন খেলতো আমি মাঠে যেতে চাইতাম না। শুধু তাই নয়, বাড়িতেও ওর খেলা দেখতাম থেমে থেমে। তাও যখন জানতাম যে, সে ঠিকঠাক ব্যাটিং করছে। শরীরের পজিশন ঠিক রাখার পাশাপাশি বলেও চোখ রাখছে।’
বাবা হয়েও ছেলের ভুলত্রুটির সমালোচনা করেছেন কঠোরভাবে। সাঙ্গাকারা নিজেও জানতেন, ভুল করলে বাবার কথা শোনা অবধারিত। লংকান কিংবদন্তির বাবার ধারণা, ছেলে যে রকম দক্ষ তার আরও ভালো করা উচিৎ ছিল, ‘আমি সবসময়ই ওর কঠোর সমালোচনা করেছি। ও নিজেও এটা ভালো করেই জানতো। টেকনিকের জন্য ওকে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া শ্রদ্ধা করতো। কিন্তু আমার মনে হয়, কুমার কখনোই ওই পর্যায়ে যেতে পারেনি। ওর যে দক্ষতা ছিল, আরও ভালো করতে পারতো! সবাই বলে ওর ব্যাটিং গড় গ্রায়েম পোলক, গ্যারি সোবার্সদের মতো। তবে কুমার আরও ভালো করতে পারতো। মাঝে মাঝে বোলাররা ওকে আউট করতে পারেনি, সে নিজেই উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছে।’
সত্যিকারের ব্যাটসম্যান হতে হলে স্যার ডন ব্রাডম্যানের মতো হতে হবে বলে মনে করেন সাঙ্গাকারার বাবা। তিনি লেখেন, ‘আমার কাছে ব্যাটিং মানেই ডন ব্র্যাডমান। প্রতি তিন ইনিংসে একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন ডন। নিজেকে সত্যিকারের ব্যাটসম্যান ভাবলে ওরকম কিছু করে দেখানো উচিৎ। কুমার ভালোই করেছে। কিন্তু সম্ভাবনার সবটুকু কী দেখাতে পেরেছে?
সাঙ্গাকারার ছোটবেলার কোচ ছিলেন তার বাবাই। তিনি অকপটে বলে দিয়েছেন তার ছেলের চেয়েও খেলাটায় নিয়ন্ত্রন বেশি ছিল মাহেলা জয়াবর্ধনে, মারভান আতাপাত্তু এবং অরবিন্দ ডি সিলভার, ‘একদম ছোটবেলা থেকেই আমি কুমারের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কাজ করেছি। ব্যাটিং সবসময়ই সে ভালো করতো। কিন্তু ভালো ব্যাটিং আর টেকনিক সবসময়ই আলাদা। জয়াবর্ধনের টেকনিক ছিল খুবই ভালো। দুর্দান্ত ডিফেন্সও করতো। কুমারের ধৈর্য্য এবং দৃঢ়তা বেশি ছিল বলে ও বেশি রান করেছে। কিন্তু আমি এখনও বিশ্বাস করি মাহেলা, মারভান আতাপাত্তু, অরবিন্দ ডি সিলভাদের নিজের খেলার উপর নিয়ন্ত্রন ছিল আরও বেশি।’
ক্রিকেটের হাত ধরে কিভাবে ছোট্ট সাঙ্গাকারা বড় হয়ে উঠলেন সেই গল্পও শুনিয়েছেন বাবা, ‘কুমারের বেড়ে উঠার সময় আমি ওকে ব্র্যাডমান-গাভাস্কারের খেলা দেখিয়েছি। অনেক গল্পও শুনিয়েছি। কুমারকে আমি সহজাত প্রতিভা বলবো না; কিন্তু ওর ব্যাটিং করার ক্ষমতা ছিল দারুন। অনেকেই জানেন না টেনিসেও ভালো ছিলেন কুমার। টেনিসই ছিলমওর প্রথম খেলা। অবশ্য ওর চেয়েও ভালো খেলোয়াড় ছিল ওর বোন সারাঙ্গা। ১৫ বছর বয়সেই সে জাতীয় শিরোপা জিতেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও ভালো করেছিল। কিন্তু তাকে শেষ করে দিয়েছে কাঁধের চোট। কিন্তু কুমারের টেনিস প্রতিভা বেশি ছিল। একদিন সারাঙ্গা টেনিসে কুমারকে হারিয়ে দিল। এরপর থেকে আর কখনও টেনিসকে গুরুত্ব দেয়নি কুমার।’

