ঢাকাTuesday , 18 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শুধু পানি দিয়ে সবজি চাষ

Link Copied!

mymensinghময়মনসিংহ প্রতিনিধি : পানি দিয়েই সবজি চাষ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই রূপ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ সালাম।
এ পদ্ধতির নাম একোয়াপনিক্স। সম্পূর্ণ রাসায়নিক পদার্থবিহীন শাক-সবজি উৎপাদনে নিজের বাড়ির ছাদেই সফল গবেষণা চালিয়েছেন তিনি।
একোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মাটিবিহীন পাত্রে যেকোনো স্বল্প স্থানে স্ট্রবেরি, লেটুস, বেগুন, স্কোয়াশ, টমেটো, ওলকপি, পুদিনা পাতা, কলা, আমড়াসহ আরও অনেক শাক সবজি ও ফল চাষ সম্ভব। এমনকি আমেরিকার শষাও উৎপাদন সম্ভব হয়। যার খরচ নিতান্তই নগণ্য।
ফল ও সবজি চাষ করে ড. সালাম রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পুরো বিশ্বকে। ইতোমধ্যে জাপানের ‘সাইতো কমওয়্যার কোম্পানি লি. তার এ প্রযুক্তি লুফে নিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএফআর এফ মেলায় এ উদ্ভাবন দখল করে নেয় প্রথম স্থান।
ধারাবাকিহ গবেষণার ফলাফল হিসেবে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা করে ভবিষ্যতে মাত্র ৫০০ স্কয়ার মিটারে ৩ থেকে ৪ মেট্রিক টন লেটুস, ৩ থেকে ৪ মেট্রিক টন টমেটো ও ৬০০-৭০০ কেজি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ড. এমএ সালাম।
একয়াপনিক্সের প্রধান দুটি উপাদান হচ্ছে মাছের ট্যাঙ্ক এবং সবজি চাষের পাত্রের মাঝে ছোট্ট একটি পানির পাম্প এবং বায়ু পাম্প। যার মাধ্যমে ট্যাঙ্কের পানি সবজির পাত্রে ও ট্যাঙ্কে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় এবং পাত্র থেকে পানি পুনরায় ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এই ক্ষেত্রে গাছ পানি ও পুষ্টি আহরণ করে বৃদ্ধি পায় এবং মাছের বসবাসের জন্য পানিকে করে নিরাপদ।
ড. সালাম বলেন, সর্বাধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে টাওয়ার বা উলম্ব পদ্ধতি। যেহেতু বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে সেহেতু এই দেশের জন্য উলম্ব পদ্ধতি খুবই উপযোগী। এই পদ্ধতি কম জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের সর্বাধুনিক কৌশল।
ড. সালাম জানান, দোতলা-তিন তলা পদ্ধতিতে একটি মাচার উপর কয়েক সারি ছিদ্রযুক্ত পাইপ স্থাপন করে প্রতিটি ছিদ্রের মাঝে একটি করে ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিকের গ্লাসে ইটের খোয়া দিয়ে তার মাঝে সবজির চারা রোপণ করে অল্প স্থান হতে অধিক ফসল উৎপাদন করা যায়। এই পদ্ধতিতে পাইপের এক পাশ হতে মাছের পানি সরবরাহ করা হয় এবং  অপর পাশ দিয়ে পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। পরে একটি ৫০০ লিটারের প্লাস্টিকের পানির ট্যাঙ্কের উপরের মাথা কেটে পানি দিয়ে পূর্ণ করে তাতে প্রতি ১০ লিটার পানিতে একটি তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দুই বেলা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ভাসমান খাবার সরবরাহ করা হয়।
মাছের ট্যাঙ্কে যাতে অক্সিজেনের অভাব না হয় তার জন্য একটি বায়ূ পাম্পের সাহায্যে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। মাছের ট্যাঙ্কের পানিকে একটি ছোট্ট পাম্পের সাহায্যে প্রতিটি পাইপের উপর দিয়ে তার মাঝে সরবরাহ করা হয়।
এ পদ্ধতিতে মাছের ট্যাঙ্কে অ্যামোনিয়াযুক্ত দূষিত পানি ডি-নাইট্রিফায়িং ব্যাকটেরিয়া প্রথমে অ্যামোনিয়াকে ভেঙে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রোব্যাকটর নাইট্রেটে পরিণত করে যা পাইপে অবস্থিত গাছকে পুষ্টির জোগান দেয় এবং পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। কোনো প্রকার মাটি, রাসায়নিক সার বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। মাটিতে যে স্থানে একটি মাত্র গাছের চারা লাগানো যায় সেই একই পরিমাণ স্থানে এই পদ্ধতিতে ১৩ থেকে ১৫টি চারা লাগানো সম্ভব।