নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৮ মাস পর জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার রাত পৌনে ৯টায় তার গুলশানের কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলেন।
তারা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, খালেদা জিয়া লন্ডন যাবার প্রাক্কালে কেন হঠাৎ করে জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন।
জোট সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি জোট ভাঙা নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচার হয়েছে। এসব প্রতিবেদন প্রচারের ফলে মানুষের মধ্যে জোটের ভবিষ্যত নিয়ে খানিকটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও খালেদা জিয়া বার বার বলেছেন, ‘জোট অটুট আছে।’ সূত্রের দাবি, জনগণকে সেটা দেখানোর জন্যই তিনি বৈঠক ডেকেছেন লন্ডন যাওয়ার প্রাক্কালে।
জানা গেছে, বৈঠকে বেশির ভাগ সময় খালেদা জিয়া শরিক নেতাদের কথা শুনেছেন। লন্ডন সফর নিয়ে সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে নেতাদের প্রশ্ন ছিলো তিনি কেন লন্ডন যাচ্ছেন? জবাবে খালেদা বলেছেন, ‘চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছি।’
কবে নাগাদ বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জোটের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘২০ তারিখের মধ্যে লন্ডন যাবেন। ১৪, ১৬, ১৮ বা ২০ আগস্ট যে কোনো দিন তিনি যেতে পারেন।’
পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি বিষয়ে নেতাদের প্রশ্নে বিএনপি প্রধান সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে গত হরতাল অবরোধ কর্মসূচি কিভাবে ব্যর্থ হলো, আগামীতে কর্মসূচি দিলে কিভাবে সফল করা যায় এ নিয়ে কথা হয়েছে।
আন্দোলন কর্মসূচি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়াকে নেতারা বলেছেন, বন্দী নেতাদের মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার চিন্তা করলে অনেক সময় লেগে যাবে। তাই বিকল্প কিছু ভাবা প্রয়োজন। তা না হলে সরকারের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে রেখে তিনি নির্বাচনে যাবেন না। সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

