নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় বিচারবিভাগ নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করায় আদালত অবমাননা রুলের শুনানি শেষ করেছে সুপ্রিমকোর্ট। এ শুনানির রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র আরো সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী ও চলমান রাজনীতি বিষয়ক সভার আয়োজন করে সংগঠনটি।
আইন, বিচার ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘গতকাল সোমবার কোর্টপাড়া ছিল গরম। সাংবাদিক আর সুপ্রিমকোর্ট কনটেমপ্ট কেস এ প্রথম কনটেস্ট হচ্ছে। এর আগে কোর্টে কনটেমপ্ট কেস হলে অভিযুক্তকারীরা বলতেন, হুজুর ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দেন। সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে এমন কনটেস্ট কেস হয়নি। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা।’
তিনি বলেন, ‘কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ সবাইকে তার কাজটি স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে। সাংবাদিকদেরও কোর্ড অব কনডাক্ট আছে। তাদের সেগুলো বিবেচনা করেই কাজ করতে হয়। দুর্বল মানুষের শেষ আশ্রয় স্থল সংবাদপত্র। আর রাষ্ট্রের মূল মালিক জনগণ।’ এ মামলার রায়টি মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. খন্দকার এমদাদুল হক সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাফফ হোসেন পল্টু, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা হারুন চৌধুরী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার এ রায়ের শুনানিতে বিচারবিভাগ নিয়ে অবমাননাকর নিবন্ধ প্রকাশ করায় দৈনিক জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুলের শুনানিতে বক্তব্যে আদালত নিয়ে কুৎসা রটনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা: পালাবার পথ কমে গেছে।’ শিরোনামে গত ১৬ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে স্বদেশ রায়ের লেখা একটি নিবন্ধকে কেন্দ্র করে বিষয়টির সূত্রপাত হয়। এ নিয়ে গত ২৯ জুলাই বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চূড়ান্ত রায়ের দিন দৈনিক জনকণ্ঠ সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়।

