নিজস্ব প্রতিবেদক : দলীয় কার্যক্রম না থাকায় বিগত ৮ মাসেরও অধিক সময় ধরে কর্মহীন ও প্রাণচঞ্চলহীন অবস্থায় পড়ে আছে ঢাকা মহানগর বিএনপি অফিস। বিগত বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই কার্যত শূন্য পড়ে আছে নগর বিএনপির অফিস। মূলত অফিসের কর্মচারীদের কোনো কাজ না থাকায় ও কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা না আসার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১৪ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত সরকার বিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার অভিযোগে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও সদস্য সচিব আব্দুস সালামের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। এরপর ওই বছরের ১৮ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী-খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
তবে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির টানা তিন মাসের আন্দোলনে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দেয় ঢাকা মহানগর বিএনপি। এই সময় আন্দোলন ও সংগ্রামে মাঠে দেখা যায়নি মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল।
গত ৫ জানুয়ারি আন্দোলনের শুরু থেকেই আত্মগোপনে চলে যান মির্জা আব্বাস ও সোহেল। যদিও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী হওয়ার কারণে নাশকতার মামলায় আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে উপস্থিত হন আব্বাস। তবে আগাম জামিন না হওয়ায় আবারো আত্মগোপনে চলে যান মির্জা আব্বাস। পরবর্তীতে মির্জা আব্বাসের পক্ষে তার স্ত্রী নির্বাহী প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন।
ঢাকা মহানগর বিএনপির বর্তমান অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই অফিসের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। কারণ আমার দায়িত্ব অফিস পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা। আর আমি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি।’
গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে কোন নেতাকর্মী কি অফিসে এসেছিলেন- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেউ আসেননি। কারণ আমি প্রতি সপ্তাহে একবার করে অফিসের তালা খুলে সব কিছু পরিষ্কার করি। আর অফিসের চাবিও আমার কাছেই থাকে। তাই কেউ আসলে অবশ্যই আমার সাথে তাদের দেখা হতো।’
একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, ‘এই প্রশ্ন আপনি আমাকে না করে ঢাকা মহানগর বিএনপির দায়িত্ব যাদেরকে দেয়া হয়েছে তাদের করুন। কারণ তারা আমার চেয়ে এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’
এই বিষয় জানতে মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন-নবী-খান সোহেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

