নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী দুএকদিনের মধ্যেই লন্ডন সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ কথা জানিয়েছেন।
সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
রিপন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বেড়াতে যাচ্ছেন না, চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন। চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপার আছে। সেটি কনফার্ম হলেই তিনি লন্ডন যাবেন। সেখানে তিনি এক সপ্তাহের মতো অবস্থান করবেন।’
এর আগে গত শনিবার রাতে সদ্য কারামুক্ত দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু বলেছিলেন, ‘আগামী ১১ আগস্ট তিনি (খালেদা) লন্ডনের উদ্দ্যেশে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন।’
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেছিলেন, ‘ম্যাডামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। মূলত চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডন যাচ্ছেন।’
অবশ্য একপক্ষ বলছে- মূলত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ঘটা করে তার জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত থাকতেই তিনি বাংলাদেশ ছাড়ছেন।
এদিকে সরকারের নৈরাজ্যর কারণে উচ্চ মাধ্যমিকে আশানুরোপ ফল হয়নি মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে দায়ী করা হয়েছে। আসলে সরকারের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার উপকরণ, সঠিক পাঠদানের সীমাবদ্ধতাই উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে।’
রিপন বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় পরীক্ষার ফল খারাপ হয় না। রেজাল্টে দেখা গেছে- অনেক পরীক্ষার্থী সব বিষয়ে পাস করছে শুধু ইংরেজিতে ফেল করছে, তাহলে কি রাজনৈতিক প্রভাব কি ইংরেজির ওপর পড়েছে? রাজনৈতিক প্রভাব অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, কূটনৈতিক সব ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে। সরকারের ইচ্ছা থাকলে রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে পারতো। পরীক্ষার সময় সূচি পরিবর্তন করে পিছিয়ে নিতে পারতো।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ছাত্রসংসদ গঠনের যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে স্বাগত জানিয়ে রিপন বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। আগে ছাত্র সংসদ ছিল, তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হতো। সে পথ আজ বন্ধ। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছে সরকার। তাই সরকারের কাছে আহ্বান জানাই অনতিবিলম্বে ছাত্র সংসদের ব্যবস্থা করবেন।’
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন- ছাত্রলীগের ওরা শিশু, ওদের বেশি সমালোচনা করবেন না। ছাত্রলীগ শিক্ষকদের মারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়, ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়, ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে, এগুলো কি শিশুদের কাজ? ছাত্রলীগের অপকর্মের জন্য শেখ হাসিনাও তার নাম ছাত্রলীগ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতারিত করেছে। তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করতে দেয় না। এতেই ছাত্ররাজনীতি রুগ্ন হয়ে পড়ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

