নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেছেন, মুজিবকোট গায়ে দিয়ে আজকে অনেকে ব্যবসায় নেমেছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার দেন রুনা লায়লাকে, যিনি কিনা পাকিস্তানে ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আর যাদের গান আমরা মুক্তিযুদ্ধ করার সময় শুনেছি, তাদের কিছুই দেওয়া হয়নি।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধ : সত্যের মুখোমুখি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক সাইয়িদ বলেন, মুজিবকে হত্যা করা হবে- এ কথা সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা ও পুলিশের তখনকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানতেন। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। তাই যারা নিজ হাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, শুধু তাদের বিচার করলেই হবে না। তখন যারা এসব ঘটনা জানার পরও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, আজকে তাদেরও বিচার করতে হবে।’
তিনি জাতির কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, কে এই স্বাধীনতার পুরস্কার ঘোষণা করেন? কারা নির্বাচন করেন? আর কীভাবে প্রকৃত তথ্য বাদ পড়ে?
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর কতকাল ঘুমিয়ে থাকবে। একের পর এক মুক্তমনা মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হবে আর পুলিশ বলবে ‘মোটিভ’ একই। এই কথা আর কত দিন শুনব?’
তিনি বলেন, ‘রাজীবকে হত্যা করার পরে তার বাবা থানায় মামলা করতে যখন যান, তখন ওই থানার কর্তা তাকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দেন। আর কতকাল আমরা পুলিশ বাহিনীর এমন আচরণ দেখব? এটা কি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল?
বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ নতুন বইটি প্রসঙ্গ বলেন, ‘এই বইয়ের মধ্যে এমন কিছু তথ্য আছে, যা একজন শিক্ষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের কাজে আসবে। আর যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন দেখতে চান, তাদেরও কাজে আসবে।’
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা আজহার আলী প্রামানিক, মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, সাবেক সাংসদ ও ডাকসুর ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ।

