নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব সঙ্কটের কারণে বিএনপির মধ্যে একটি শক্তি বিকৃত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চান। আরেকটি শক্তি আছে যারা উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী রাজনীতিকে রেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি করতে চান।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠির এক আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
সুরঞ্জিত বলেন, ‘এই দেশে মুক্তিযুদ্ধকে অমান্য করে, স্বাধীনতাকে অমান্য করে বঙ্গবন্ধুকে অমান্য করে স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতি ভবিষ্যতে করার আর সুযোগ নেই।’
এসময় আবারও শোক দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসনকে জন্মদিনের কেক কাটা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক হিসেবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করার সময় এটাই। আপনারা (বিএনপি) এগিয়ে আসুন, জাতির জনককে গ্রহণ করে বিকৃত জন্মদিনের কেক কাটা বন্ধ করুন।’
২০ দলীয় জোটের অন্যতম দল জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার অনুরোধ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করুন। আমরা আপনাদের স্বাগত জানাবো। দুইটা এক সঙ্গে চলবে না। রাজাকার চাই, মুক্তিযোদ্ধাও চাই এই রাজনীতি থেকে আপনাদের ফেরৎ আসতে হবে। স্বাধীনতা আপনাকে কথা বলার অধিকার দিয়েছে তাই বলে আপনি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা বলবেন এ অধিকার পৃথিবীতে কেউ দেয়নি, আর আমরাও দিবো না।’
এসময় তিনি বিএনপিকে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার মূল শর্ত হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি না করা, এবং স্বাধীনতার চেতনাকে মেনে নেয়ার আহ্বানও জানান।
বিএনপিকে নিয়ে খুবই বিপদ মন্তব্য করে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিরে নিয়া তো খুবই বিপদ। তারা কখন কি কয়, কে কি কয়, তার কোন ঠিক নাই। কে এদের পাত্র এরও কোনো ঠিক নাই।’
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবির জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে। তাহলে একটি সঙ্কট রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধান হয়ে গেল। উনারা (বিএনপি) আর মধ্যবর্তী নির্বাচন চান না। উনারা নতুন নির্বাচন চান। নতুন নির্বাচন সম্পর্কে সংবিধানে বলা আছে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর হবে। আর এটিই হচ্ছে সাংবিধানিক বিধান।’
বিএনপির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে বিএনপি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। দেশের রাজনীতি আর অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে না। যথা সময়ে সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে যাতে করে নির্বাচনটি নিরপেক্ষ হয়। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। সব দলই কাজ করবে।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাশ।

