গাজীপুর প্রতিনিধি : এক যুগ পর বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে ধারাবাহিক রাজনীতির পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জল হয় এমন ব্যক্তিদের সমর্থন করেছেন তারা।
একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন থেকে ২১ জন করে মোট ১৬৮ জন কাউন্সিলরের ভোট বা মাতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। সম্মেলনেই নির্ধারিত হবে কারা থাকছেন কমিটিতে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শ্রীপুর পৌর মুক্তমঞ্চে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রহমত আলী এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।
সম্মেলন উদ্বোধন করবেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক।
প্রধান বক্তা হিসেবে থ্কবেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান। সম্মেলনে গাজীপুরের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সদস্যদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান জানান, ২০০৩ সালে সর্বশেষ শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয়। উপজেলা পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সদিচ্ছা থাকলেও জেলা পর্যায়ের নেতারা সময় দিতে না পারায় নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর উপজেলা অওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও তেলিহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তন চাই। স্বচ্ছ মানুষের নেতৃত্ব আশা করি। ধ্বংসাত্মক, প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে। সরকারের সফলতা যেন ম্লান না হয় এবং ভাবমূর্তি যেন উজ্জল হয় এরকম মানুষ চাই। সরকারের সমর্থনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ে এরকম ব্যক্তিদের কমিটিতে মূল্যায়ন করা উচিত।’
শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক ও আওয়ামী সমর্থক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আওয়ামীলীগ দল হিসেবে বড়। আমি চাই সকল প্রকার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের দিক থেকেও দলের নেতারা থাকবেন সবার ওপরে। একইসঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের মূল্যায়ন করবেন দলের সিনিয়র নেতারা।’
উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল্লাহ ফকির বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকতে হবে সৎ লোক। সকলকেই ভালো হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একজন ভাল লোককে বার বার একই কাজ করাতে কোনো সমস্যা নেই।’
যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক আলহাজ অ্যাডভোকেট হারুন-অর রশীদ ফরিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রুপকল্প ২১’ বাস্তবায়ন করতে পারেন সৎ, যোগ্য, আদর্শ ও ত্যাগী নেতৃত্ব। আমি আশা করি, উপজেলা আওয়ামী লীগের আগামী নেতৃত্ব বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে।’
এদিকে, সম্মেলন উপলক্ষে গত দুই সপ্তাহ যাবত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিছিল, মিটিং, গণসংযোগ, ব্যানার, ফেস্টুন এবং তোরণ নির্মাণ চলছে।

