ঢাকাMonday , 27 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জিয়ার বিএনপিকে ফেরাতে গঠনতন্ত্রে সংশোধন!

Link Copied!

BNPনিজস্ব প্রতিবেদক : দলের সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করার নানা পদক্ষেপ বারবার ব্যর্থ হয়েছে বিএনপির। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে দলের বিচ্যুতি ঘটেছে বলেও অনেকে সমালোচনা করছেন। খোদ বিএনপির মধ্য থেকেও এমন সমালোচনা আসছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবার গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা করছে দলটি। এটিকে জিয়ার বিএনপিকে ফেরানোরই একটি প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র সংশোধনে প্রচলতি নিয়ম অনুযায়ী একটা প্রস্তাবনা কমিটি গঠন করা হবে। কাউন্সিলররা এ কমিটির কাছে সংশোধনী প্রস্তাব লিখিতভাবে দেবেন। প্রস্তাবনা কমিটি তা দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করবে। সর্বোচ্চ ফোরামে অনুমোদনের পর কাউন্সিলের দিনে কাউন্সিলরদের ভোটে তা পাস হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে দলটিতে গঠনতন্ত্রের চর্চা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। আবার কিছু কিছু প্রয়োজনীয় ও গ্রহণযোগ্য বিষয় গঠনতন্ত্রে সংযুক্তিরও তাগাদা নেই। এসবই এখন বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এবার বিএনপির গঠনতন্ত্র হবে সময় উপোযোগী। ফলে দলটি গতিশীল এবং শক্তিশালী হবে বলেই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
গঠনতন্ত্র সংশোধনে ‘ওয়ান ম্যান : ওয়ান পোস্ট’ নীতির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে দলের সব পর্যায়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এ নীতি যুক্ত করলে আগামীতে বিএনপিতে একজন নেতার একাধিক কমিটিতে থাকার সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে স্থায়ী কমিটির এমন অনেক সদস্য রয়েছেন যারা নিজ জেলা বা মহানগর কমিটিতে রয়েছেন। যেমন: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; তিনি কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। মির্জা আব্বাস ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহাও চান কৃষক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মধ্যেও এমন অনেকে আছেন। এর মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক।
শীর্ষ নেতাদের একাধিক পদ আঁকড়ে থাকার সংস্কৃতি নেতৃত্ব বিকাশের অন্তরায় বলে মনে করে নেতাকর্মীরা। তারা চাইছেন, এক নেতা একটি পদেই থাকুন। আর জিয়াউর রহমানের সময়ে এক নেতা কখনোই একাধিক পদে ছিলেন না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে অনেকে নিস্ক্রিয়। তারা নির্বাহী কমিটিতে যাতে ভূমিকা রাখতে পারে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সময় সেদিকেও নজর রাখছেন কাউন্সিলররা। উপদেষ্টা পরিষদে বিভিন্ন পেশাজীবী বিশেষজ্ঞদের প্রাধান্য দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের সময়ে বিষয় ভিত্তিক উপ-কমিটি ছিল। যা বর্তমানে আওয়ামী লীগেও রয়েছে। এই বিষয় ভিত্তিক উপ-কমিটির মাধ্যমে অনেক নেতাকে পদায়নের সুযোগ থাকে। বিএনপিতে এবার এ নিয়ে জোরালো ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া বিএনপিতে নতুন যেসব পদ সৃষ্টির কথা শোনা যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে: বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ, দলের কো- চেয়ারম্যান, মুখপাত্র, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক।
এছাড়াও বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম থেকে শুরু সব পর্যায়ের কমিটিতে সংখ্যাগত এবং অবস্থানগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কেউ সরাসরি কিছু বলতে রাজি হচ্ছেন না। অবশ্য পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করছেন তারা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিক শিকদার বলেন, ‘সময়ের চাহিদা অনুযায়ী গঠনতন্ত্র পরিবর্তন দরকার। নতুন পদ সৃষ্টি হলে নেতাকর্মীরা সেখানে দায়িত্ব পাবে। তবে শুধু পদ সৃষ্টিই বড় বিষয় নয়, সংশ্লিষ্টরা যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে, পদ দিয়ে লাভ নেই।’
তার অভিযোগ, ‘বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব নেই। তারপরও নিজের তাগিদ থেকে দলের আদর্শ নিয়ে কাজ করছি। অথচ অনেক সম্পাদক-সহ সম্পাদক রয়েছেন যারা দায়িত্ব পালন করেন না।’
দলের প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তার মতে, গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের প্রয়োজন যদি দল মনে করে তাহলে অবশ্যই হওয়া উচিৎ।
গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে বলে জানালেন যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন। তবে সে ব্যাপারে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা তিনি জানেন না।
বিএনপির গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তাদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু মহাসচিব অসুস্থ থাকায় তার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি।