ঢাকাSaturday , 25 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে অনেকের দীর্ঘশ্বাস

Link Copied!

hasinaনিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার বয়সসীমা বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি তাদের বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ২৯ বছর করেন। চার বছর পর সম্মেলন হচ্ছে বলে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে এ সুবিধাটুকু দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
কিন্তু আসলেই কি এটা পদপ্রত্যাশীদের জন্য কোনো কাজের গ্রেস পিরিয়ড? ছাত্রলীগের ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ কাউন্সিলেও পদপ্রত্যাশীদের বয়সসীমা ছিল অনূর্ধ্ব ২৯ বছর। যদিও সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে লেখা আছে ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্যের বয়স হবে অনূর্ধ্ব ২৭ বছর।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী তার ঘোষণায় বলেন, ‘আমি আগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আসার একটি বয়স ঠিক করে দিয়েছিলাম। সেটি ছিল ২৭। কিন্তু দুই বছর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলন হচ্ছে ৪ বছর পর। তাই তাদের বয়সের ক্ষেত্রেও মনে হয় একটা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেয়া দরকার।’ এ সময় হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বয়সসীমা ২৯ বছর বলে ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কিন্তু পরক্ষণেই মলিন হয়ে যায় অনেক নেতার মুখ। তারা আঙ্গুলের কড় গুণে দেখলেন একটুর জন্য পদপদবীর সুযোগ ফসকে গেছে! তারা ভেবেছিলেন যেহেতু চার বছর পর সম্মেলন সেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বয়স বাড়িয়ে ৩০ বছর করবেন।
বয়স বাড়ানো সম্পর্কে এক নেতা বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে বয়স বাড়ানো হয়নি। কারণ আগের সম্মেলনেও ২৯ বছর রাখা হয়েছিল। দুই বছরের জায়গায় চার বছরে সম্মেলন করায় এমনিতেই অনেক যোগ্য নেতা বয়সের কারণে ছিটকে পড়ে যায়। তাদের আশা ছিল এবার বয়সসীমা ৩০ বছর করা হবে। তাহলে যোগ্যদের হাতেই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব আসতো। কিন্তু বয়স ২৯ বছর রাখায় অপরিপক্কদের হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব চলে যাবে।’
এদিকে বয়সসীমা ২৯ বছর করায় নেতা হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে পড়লেন আলোচিত চার নেতা- বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিসুজ্জামান।
অবশ্য নির্বাচন কমিশন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য মোট ২৪২ জনের মধ্যে যে ৩৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন বয়স বেশি হওয়ার কারণে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে ২৭ বছর থেকে ২৯ বছরের মধ্যে যেসব নেতাকর্মী বয়সের কারণে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিলেন তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদারের অনুসারীরাই গত কয়েক কমিটিতে শীর্ষ পদে রয়েছেন। প্রতিবারই তিনি মেকানিজম করে তার অনুসারীদের নেতৃত্বে নিয়ে আসেন। শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিগুলোতেও তিনি মেকানিজম করেন।’
বয়স জটিলতার কারণে অনেক যোগ্য নেতাই এবার ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবেন না। তাই অনেকে বয়স কমানোর জন্য ভুল তথ্যও দেন মনোনয়নপত্রে। এই অভিযোগে বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিলও হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫(ক) ধারায় উল্লেখ আছে, অনূর্ধ্ব ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবেন। তবে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল অনূর্ধ্ব ২৯ বছর। এসময় ওয়ান-ইলেভেনের কারণে ছাত্রলীগের প্রধান অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদপ্রার্থীদের বয়স দুই বছর বাড়ানো হয়।