ঢাকাFriday , 24 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রুপিং এড়াতে এবারও সিলেকশন

Link Copied!

leegeনিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের দুই বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবারের সম্মেলন হচ্ছে চার বছর পর। ২৮তম এই সম্মেলন হবে আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই। সম্মেলনকে ঘিরে চলছে নানা লবিং। প্রভাবশালী নেতাদের লবিংয়েই পদ পাবেন পদপ্রত্যাশীরা। তবে এবারও দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়া ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে বেছে নেয়া হচ্ছে সিলেকশন প্রক্রিয়া। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, আগামী শনিবার ও রোববার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এর মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচনের পরিবর্তে সিলেকশন। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করবেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকেই চাচ্ছেন ছাত্রলীগের আগামী নেতৃত্ব শেখ হাসিনার পছন্দেই আসুক। আশির দশকে দেশে ফেরার পর থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রধান নিজেই ভূমিকা রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই নতুন নেতৃত্বের বিষয়টিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন।
২০০৬ ও ২০১১ সালে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সময় ভোট কেনাবেচাসহ নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ সব অনিয়ম ঠেকাতেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সিলেকশন কমিটি করার কথা ভাবছে। সংগঠনে কোন্দল ও গ্রুপিং এড়াতে শেখ হাসিনা নিজেই এ কমিটি ঘোষণা দিতে পারেন।
সম্মেলনকে ঘিরে সব প্রস্তুতি নিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকেও। সারা দেশ থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরাও ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছর ধরে কমিটি গঠনে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মতানুসারী হিসেবে একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রেখে আসছেন সাবেক সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক লিয়াকত শিকদার। তার সঙ্গে অন্যরা রয়েছেন এনামুল হক শামীম, মাহফুজ হায়দার রোটন, গোলাম সরয়ার কবীর এবং বর্তমান সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এছাড়াও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটির নেতারাও সরাসরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। নগর কমিটি ঘোষণার পর পরই পদবঞ্চিতদের একটা অংশ সেগুনবাগিচায় লিয়াকত শিকদার ও বদিউজ্জামান সোহাগের বাসার সামনে গুলিবর্ষণ এবং বাড়ির ফটকে ভাংচুর করে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারী, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহমুদুল হাসান রিপন ও মারুফা আক্তার পপি সক্রিয় রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থী : ইতোমধ্যেই এ দুই পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২২২ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদপ্রার্থী ৭৪ জন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ১৪৮ জন। এর মধ্যে সম্ভাবনার তালিকায় এগিয়ে আছেন ডজন খানেক নেতা। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়স নেই। আবার অনেকই বিবাহিত রয়েছেন।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী এনায়েত, পরিবেশ সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম, উপ-আইন সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা, ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক ইমতিয়াজ বাপ্পী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক প্রিন্স, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম।
তবে এবারের সম্মেলনে চমক থাকছে বলে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র দাবি করেছে। ওই সূত্র অনুযায়ী, এমনও হতে পারে এ সংগঠনের শীর্ষপদে কোনো নারী নেতাকেও দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চাইলে শারমিন সুলতানা লিলি, আফরিন নুসরাতের মতো নারীকেও সভাপতি বা সাধারণ সম্পদকের পদ দিয়ে চমক আনতে পারেন।
সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি লিয়াকত শিকদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তা ভিত্তিহীন। সংগঠনের একজন সাবেক কর্মী হিসেবে ছাত্রলীগের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে চেষ্টা করছি। কিন্তু তার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি মহল বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে।’ এবারের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নিজের কোনো প্রার্থী নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি করা গেলে ভালো। আর তা না হলে অন্যান্য যেসব পূর্বশর্ত আছে, সেগুলোর মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হবে। ছাত্রলীগকে কোনো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে না বলেও দাবি করেন তিনি।
২০১১ সালের ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ ২ বছর। কিন্তু বর্তমান কমিটি ৪ বছর পর সম্মেলন করছে। ফলে গঠনতন্ত্রে বয়সের ক্ষেত্রে যে সীমা দেয়া রয়েছে তা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্মেলনের কথা বলার পর গত ৮ মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে ছাত্রলীগ।