ঢাকাThursday , 16 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাদামে পাল্টে গেল জীবন, চরে হাসি

Link Copied!

nutsকুষ্টিয়া প্রতিনিধি : নদীর ভেঙে নিয়ে গেছে বসত ভিটা। মাথা গোঁজার একটুকু জায়গাও ছিলনা। তাই ভিন্ন কোনো জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল পদ্মার আঘাতে বিপর্যস্ত পরিবারগুলো। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানেই তাদের ভিটেমাটির জায়গাটিতে পড়েছে চর। কিন্তু সেখানে আর ঘরবাড়ি বানানোর কোনো উপায় নেই এখন। তাই কী করা যায় ভাবতে ভাবেতে শুরু করলো বাদামসহ অন্য সবজি উৎপাদন। বেশ ভালোই হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি আর সহায় সম্পত্তি হারা মানুষগুলোর মুখে আবারও ফুটতে শুরু করেছে হাসি।
ঠিক এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে গেলে। যেখানে ব্যাপকহারে বাদাম চাষ করা হয়েছে। এতে বদলে যেতে শুরু করেছে পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবনচিত্র।
কয়েক বছর আগেও পদ্মার বিস্তীর্ণ ধু ধু বালুচর পতিত অবস্থায় পড়ে থাকতো। বালুময় এসব চরে কোনো ফসল উৎপাদন হতে পারে তা ছিল কৃষকদের কল্পনার বাইরে। সেই বালুচর থেকেই এখন উৎপাদন হচ্ছে বিপুল টাকার বাদাম।
এ বাদাম চাষের মধ্য দিয়ে চরাঞ্চলের কয়েকশ কৃষকের ভাগ্যে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। এসব চরে অর্থকরী ফসল বাদাম চাষ করে নদীভাঙা মানুষের মুখে সুখের হাসি ফুটেছে।
চরের এই বাদাম যে সবুজ প্রকৃতি সৃষ্টি করেছে তা দেখা যাবে দৌলতপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মানদীর পাড়ে গেলে। চরগুলোয় যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। উপজেলার চার ইউনিয়নের কয়েকশ কৃষক কয়েক হাজার বিঘায় বাদামের চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের তেল ও আমিষের ঘাটতি পূরণেও বড় ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দশকে প্রমত্তা পদ্মার তীব্র ভাঙনে নদী তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার। প্রায় এক যুগ আগে নদীর বুক জুড়ে জেগে উঠতে থাকে বিস্তীর্ণ চর। কিন্তু চর জেগে ওঠার পর দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়েছিল। বিস্তীর্ণ এই চরে ক্রমেই পলি পড়ে ফসল চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। এরপর কৃষকরা সেখানকার জমিতে ফসল ফলাতে শুরু করেন।
নদী তীরবর্তী মরিচা, ফিলিপনগর, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিশাল এলাকাজুড়ে জেগে উঠা চরের কয়েকশ হেক্টর জমিতে অন্যান্য ফসলের সাথে ব্যাপকহারে অর্থকরী ফসল বাদামের আবাদ করা হয়েছে। এসব এলাকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎসই হচ্ছে বাদাম। তবে এই চরে এখনো প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা চরের প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে এখন বাদামসহ নানা ফসলের চাষ হচ্ছে। পানি আটকে থাকেনা এমন দোআঁশ মাটিতে বাদাম চাষ ভাল হয়। প্রতি বছর বর্ষা মওসুমের পর নদীর পানি হ্রাস পেলে চর জাগে। বর্ষায় পানির সাথে পলি পড়ে মাটি ঊর্বর হয়। অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকরা বাদামের বীজ রোপণ করেন এবং জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে বাদাম উত্তোলন করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৫-৬ কেজি বাদাম বীজ রোপণ করতে হয়। এ চাষে সেচ ও সারের খুব একটা প্রয়োজন হয় না।
এক বিঘা জমিতে ৯ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন হয়। ইতোমধ্যে হাটবাজারগুলোতে নতুন বাদাম উঠতে শুরু করেছে। শ্রেণীভেদে প্রতি মণ বাদাম আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি বাদাম দিয়ে নানা খাদ্যপণ্য তৈরি করে বাজারজাত করায় এখানকার বাদামের চাহিদা বর্তমানে বেড়ে গেছে। কৃষকরা পাচ্ছেন তাদের উৎপাদিত বাদামের ন্যায্যমূল্য।
সম্প্রতি চরাঞ্চলে ঘুরে সেখানকার শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ ও আবাল-বৃদ্ধ সবাইকে বাদাম উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাদাম চাষি আব্দুর রহমান জানালেন, এ উপজেলায় পদ্মাচরে এখনো প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে কোনো ফসল হয় না। অনাবাদি এসব জমি বাদাম চাষের আওতায় আনা গেলে চরের বিপুলসংখ্যক মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক জানান, পদ্মার করালগ্রাসে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা না থাকায় সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায় তাদের দিন কেটেছে। এ অবস্থায় নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে বাদাম চাষ তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবনচিত্র।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে অর্থকরী ফসল বাদামের ব্যাপক চাষ হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন এ আবাদের দিকে ঝুঁকছে কৃষক। বাদাম চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। আগামীতে অনাবাদি অন্য চরগুলোতেও বাদাম চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি একটি প্রকল্প হাতে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে এই কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।