চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : অপরের মতামতকে সম্মান দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
সোমবার নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে নগর যুবলীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘মতামত নিতে হবে। অপরের মতামতকে সম্মান দিতে হবে। সত্যিকারের নেতা তিনি, যিনি মতামত দিতে পারেন এবং মতামত নিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে আত্নমর্যাদাহীন, তোষামোদকারী নেতাকর্মী কোন কাজে আসে না। দেশ নেতৃত্ব দেয় না, নেতৃত্ব দেয় মানুষ। আপনি কি পদলেহনকারী, তোষামোদকারী হবেন? আপনি কি নেতার বাজার করে দেবেন ? নাকি আদর্শের রাজনীতি করবেন, এটি আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘যদি নিজে পরিবর্তন না হয়, তাহলে কেউ কাউকে পরিবর্তন করতে পারে না। যদি দল করেন, আপনাকে কর্মসূচী রাখতে হবে। কর্মসূচী কি অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করা? বেগম খালেদা জিয়াকে গালি দেয়া? কর্মসূচী হতে হবে দলের জন্য, নেতার জন্য এক হওয়া।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বাস থাকতে হবে। লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে যেতে হবে। সবকিছুকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ যেটা পারেনি, যুবলীগ সেটা পেরেছে। আজকের অনুষ্ঠানে আপনারা সবাইকে এক করতে পেরেছেন। মঞ্চে আমি সব নেতাকে দেখতে পাচ্ছি।’
সুন্দরভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজন করায় দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানান যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় ষড়যন্ত্র করে এসেছে। ১৯৭১ সাল থেকে বারবার পরাজিত হয়েছে তারা। এরপরও তারা ষড়যন্ত্র বন্ধ করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ শত বাধা বিপত্তি এড়িয়ে যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ তার নির্ধারিত সময়ের আগেই নিম্ন মধ্যবিত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। এটা ষড়যন্ত্রকারীদের পছন্দ হয় না।’
r1এদিকে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানে কিছুক্ষণ পর পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা। এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো দখলে নেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এমনকি মঞ্চে উপস্থিত দলের নেতাদের ছবি মুঠোফোনে তোলার হিড়িক পড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে। তাদের চাপে কোনঠাসা কয়েকটি মিডিয়ার ফটো সাংবাদিকরা ঠিকভাবে ছবি নিতে পারেননি।
উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের থামাতে মঞ্চ ছেড়ে বার বার ছুটে যান নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে তাকে কোন হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি।
মঞ্চের সন্নিকটে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসে যুবলীগের একজন বলে উঠেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আমরা রিপোর্ট করতে এসেছি। এখন বহু উল্টা-পাল্টা সাংবাদিক বের হয়েছে।’
যদিওবা দাওয়াত দেওয়ার পরও যুবলীগের ইফতার মাহফিলের সংবাদ সংগ্রহে হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিক অনুষ্ঠানস্থলে গিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

