ঈদকে সামনে রেখে কড়া সুদ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে
তরিকুল ইসলাম,বরগুনা : বরগুনা জেলার (বরগুনা, পাথরঘাটা, আমতলী, বামনা, বেতাগী ও তালতলীর) কয়েক হাজার বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনের চেক এখন চলে যাচ্ছে দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মেমো (অর্ডার) না পাওয়া ও ব্যাংক টাকা দিতে না পারায় শিক্ষকরা বাধ্য হচ্ছেন তাদের চেক এসব সুদি ব্যবসায়ীদের কাছে বন্ধক রাখতে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন-বোনাস না হওয়ায় তারা পরিবারের চাহিদা মেটাতে চড়া দামে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের বেতন-বোনাসের চেক বন্ধক রেখে টাকা নিতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, অন্যান্য চাকরিজীবীরা আজ থেকে ১০-১২ দিন আগে জুলাই মাসের বেতনসহ ঈদের বোনাস উত্তোলন করলেও বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা এখন পর্যন্ত জুন মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পায়নি। ফলে তারা পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে উচ্চ হারে সুদের বিনিময়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
উপজেলা শহরের সোনালি ব্যাংকের সামনে গতকাল সোমবার দেখা যায় কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ী মুখচেনা কয়েকজন শিক্ষকের কাছে থেকে উচ্চ দরে সুদের বিনিময়ে বেতন-বোনাসের চেক খরিদ করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, এক হাজার টাকা পরিমাণের চেক মাত্র ৯শ’ টাকায় কিনছেন দাদন ব্যবসায়ীরা। এতে করে এক মাসের চেকে প্রায় ২ হাজার টাকা সুদ দিতে হচ্ছে দাদন ব্যবসায়ীদের।
সারওয়ার জান মডেল বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, তাকে সাক্ষী রেখে তার কয়েকজন সহকর্মী তাদের চেক বন্ধক রেখে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকেও ঈদের মতো একটি বড় ধর্মীয় উৎসবে দাদনের ওপর ভর করে টাকা নিয়ে তাদের পরিবারের চাহিদা মেটাতে হয়। এ লজ্জা শুধু শিক্ষকের নয়, নাকি জাতির তা সবাইকে ভাবার দরকার। বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক বিপ্লব তালুকদার বলেন, বাজেট আসলে দেখা যায়, শিক্ষা খাতে বরাদ্দের শেষ নেই। অথচ ধর্মীয় উৎসবেও শিক্ষকদের এই দুরবস্থার স্বীকার হতে হচ্ছে।
নামপ্রকাশ না করারশর্তে এক সুদি ব্যবসায়ী এ প্রতিবেদককে বলেন, ব্যাংক টাকা দিতে পারে না, তাই আমরা একটু লাভে চেক বন্ধক রেখে শিক্ষকদের টাকা দিয়ে উপকার করি।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের বামনা শাখার ব্যবস্থাপক পিযূষ কান্তি হালদার বলেন, ১২ ই জুলাই পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-বোনাস এর মেমো আসেনি। তবে একদিনের মধ্যে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

