ঢাকাSaturday , 11 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন করে ইমেজ সঙ্কটে আ. লীগ

Link Copied!

a-ligeনিজস্ব প্রতিবেদক : সিনিয়র ক’জন নেতার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঈদের আগ মুহুর্তে নতুন করে ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। এরমধ্যে রয়েছেন মন্ত্রী এমপিসহ কয়েকজন ডাকসাইটের নেতা। দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভুল ভ্রান্তিগুলো ছোট বড় যাই হোক, সরকারকে বিরম্বনা ঠিকই পেতে হয়। তাই অনেকেই অদল-বদলের আর ছাঁটাই-বাছাইয়ের লিস্টে। কোন নেতা কখন মন্ত্রী বা পদ-পদবী হারাবেন এ নিয়েও দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। ওই বৈঠকে আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত না থাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ায় দেখা দেয় জটিলতা। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ওপর ক্ষুদ্ধ হন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (সৈয়দ আশরাফ) যেহেতু মিটিং-টিটিংয়ে আসেন না, সেহেতু ওনাকে সরিয়ে দিলে ভালো হয়।’ এরপর তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থলাভিসিক্ত করা হয়েছ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এতে করে আওয়ামী লীগের মধ্যে মন্ত্রী ও পদ-পদবী কার কখন হারাতে হয় সেই আশঙ্কার পরিমাণ আরো বেড়ে গেছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধভাবে ৬ কোটির বেশি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ আদালত তার দণ্ড বহাল রেখেছেন। ফলে মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ২ লাখ টন গমের কার্যাদেশ পায় ইমপেক্স ইন্টারন্যাশনাল এবং ওলাম ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন নিম্নমানের, খাওয়ার অযোগ্য গত আমদানি করে। ওই আমদানি করা পচা ও পোকায় খাওয়া গম নিয়ে মন্ত্রীত্ব থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে চিন্তিত কামরুল ইসলামও। যদিও চাপে পড়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গম ব্রাজিলে আবার ফেরৎ পাঠিয়েছেন। তারপরেও শঙ্কামুক্ত নন খাদ্যমন্ত্রী।
তবে গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি সামনে আসলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মায়া এবং খাদ্যমন্ত্রী কামরুল আরো ভীত হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও মন্ত্রী পরিষদের অনেকেই রয়েছেন আশঙ্কায় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
গত বছর সাবেক আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী লন্ডনে বসে হজ নিয়ে মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও সম্প্রতি ছেড়ে দেয়া হয়। এমনকি ৭ জুলাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি থাকবে না এমন একটি চিঠি দিয়েছে স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর কাছে। এ বিষয়েও খুব শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে একাটি সূত্র দাবি করেছে।
এছাড়া সম্প্রতি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের পুত্র বখতিয়ার আলম রনির আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় দেশব্যাপী চলছে আলোচনার ঝড়। গত ১০ জুন ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল হকের কাছে রনির বন্ধু কামাল মাহমুদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, ওই দিন গাড়ি থেকে পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি গুলি ছুঁড়েছিলেন। এরপর থেকেই মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের পুত্র বখতিয়ার আলম রনির জোড়া খুনের ঘটনা সরাদেশে সাড়া ফেলে।
এত কিছুর মধ্যে আবার নিজেদের সবচেয়ে আস্থাবান ব্যক্তিকে এভাবে মন্ত্রীসভা থেকে বের করা নিয়ে চিন্তিত দলের ভেতরের সিনিয়র নেতারাই। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মন্ত্রীর থেকে সরিয়ে দেয়ায় এই মুহুর্তে ইমেজ সঙ্কটে পড়ল দলটি। ফলে দলের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।
অন্যদিকে কারো কারো এর পেছনে আঙ্গুলের ইশারাও থাকতে পারে বলে মনে করেন তারা। এমনকি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়ে যারা কলকাঠি নাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটিও নিতে চান। কিন্তু আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথা সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের গম কেলেঙ্কারি ও মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের পুত্র বখতিয়ার আলম রনির জোড়া খুনের ঘটনা আলোচনায় আসার পর আওয়ামী লীগের ইমেজ সঙ্কট আরো প্রকট আকারে ধারণ করছে বলেও তারা মত দিয়েছেন।
এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে চাই না। আর সরকার চালাতে হলে অনেক ঘটনাই সামনে আসে। আবার সব কিছু ঠিক হয়ে যায়। এখানে ইমেজ সঙ্কটের কি আছে?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রী থাকবে কি থাকবে না তা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপার। অন্যদের বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। আদালত আছেন। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আওয়ামী লীগের ইমেজ সঙ্কটের কি আছে? দল তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আশরাফুল ইসলাম দলের সাধারণ সম্পাদক। তাকে নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কে হবেন তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার এখতিয়ার। এতে দলের ইমেজ সঙ্কট হবে কেন?’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই জানেন।’