কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হারানো ব্যাপারে কিছুই বলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
তিনি বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দল ও মন্ত্রী পরিষদ দু’টি আলাদা বিষয়। প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করেন। তার দক্ষতা বিচকক্ষণতার কারণে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানেন, কখন কাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়। তাই এই ব্যাপারে আমার কোনো কথা বলার সুযোগ নেই।’
শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের হানিফনগরের নিজ বাসভবনে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে হানিফ বলেন, ‘বিএনপিই দল ভাঙার রাজনীতি করে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই দলছুটদের নিয়ে বিএনপি তৈরি করেছিল। ভাঙা গড়া তারাই করেছিল, আওয়ামী লীগ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ভাঙতে আওয়ামী লীগ লাগবে কেন? বিএনপির সিনিয়র নেতারাই বর্তমান নেতৃবৃন্দর প্রতি অনাস্থা ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন, দুর্নীতিবাজ ব্যর্থ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দল থেকে বাদ না দিলে বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।’
দল ভাঙার আশঙ্কায় খালেদা জিয়া কোথাও যাচ্ছেন না দাবি করে হানিফ আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখন আতঙ্কিত। বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে অনাস্থা ব্যক্ত করেছেন তার নের্তৃত্বের প্রতি, যেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তাতে বিএনপি ভেঙে যেতে পারে।’
মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান অর্থনীতিবিদরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সরকার আজকে অর্থনীতিকে দেশের মানুষের জন্য এগিয়ে নিয়ে গেছে। যে সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে সে সরকারের মধ্যেবর্তী নির্বাচনের কী দরকার আছে?’
কার স্বার্থে মধ্যেবর্তী নির্বাচন করতে হবে এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘জনগণ এই সরকারের প্রতি আস্থাশীল। দেশের জনগণ মধ্যেবতী নির্বাচন চায় না। আর তাই নির্বাচন ২০১৯ সালে যথা সময়েই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।’
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খানা, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

