ঢাকাFriday , 10 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ঘুষ’ দিয়েও মিলছে না টিকিট

Link Copied!

train-ticketsনিজস্ব প্রতিবেদক : সেহেরী খেয়ে আমজাদ হোসেন আজ আর ঘুমাতে যাননি। কারণ, ঘুমিয়ে পড়লে আজও কাটা হবে না বাড়ি যাওয়ার টিকিট। তাই সাত সকালেই রামপুরার জাকের রোড থেকে রওনা হলেন কল্যাণপুরের দিকে। আজ যে তাকে টিকেট পেতেই হবে!
ডাচ বাংলা ব্যাংকের ক্যাশ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করা আমজাদ চাপের মধ্যে আছেন পরিবারের কাছ থেকে। মেয়ে রাইসা তাকে পাগল করে তুলেছে, বাড়ি যেতেই হবে। পুরো রমজানে ওর স্কুল বন্ধ। কিন্তু বাবার ব্যস্ততায় বাড়ি যাওয়া হয়নি তার। বাড়ি থেকে দাদুও ফোন করছে মাঝেসাজে। চলে এসো। রাইসা জানায়, আমি তো যেতে চাই, বাবা নিয়ে যায় না।
আমজাদ তাই মেয়ের আবদার মেটাতে সকালে কল্যাণপুরে গেলেও কোনো কাজ হলো না। যে প্রত্যাশার টিকিটের জন্য তিনি ঘুরছিলেন বেলা ১১টা পর্যন্তও মেলেনি তা। তবে চেষ্টা করছেন অতিরিক্ত টাকায়ও তিনটি টিকিট কিনতে। দিনাজপুরের বিরামপুর যে তাকে যেতেই হবে।
কেবল আমজাদ হোসেনই নন, শুক্রবার সকালে কল্যাণপুরে দূরপাল্লার টিকিট কাউন্টারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিটের সন্ধানে ঘুরছেন তার মতো শত শত ঘরমুখো মানুষ। কাউন্টার থেকে তাদের জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, টিকিট নেই। মালিকপক্ষ টিকিট আছে দাবি করলেও কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে, শেষ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় বাসে বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শতসহস্র ঘরমুখি মানুষের।
কল্যাণপুরে আগমনী এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে রংপুরের টিকিট খুঁজছেন ইমরান হোসেন নামে এক যুবক। তার দরকার ১৬ জুলাইয়ের টিকিট। কাউন্টার থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, টিকিট নেই। ইমরান হোসেন জানান, ৩ জুলাই ব্যস্ততার কারণে টিকিট নিতে আসতে পারেননি। এখন পড়েছেন ঝামেলায়। চেষ্টা করছেন টিকিট পাওয়ার। তার বক্তব্য, একশ টাকা বেশি দিতে রাজি, টিকিট পেলেই হয়।
তিনি জানান, আগমনী, এসআর ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন কাউন্টারে ঘুরেছেন, কিন্তু টিকিট পাননি। তবে টাকা বেশি দিয়ে টিকিট পাওয়া গেছে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারে।
কলেজ গেটের সামনে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারে প্রচণ্ড ভিড়। উত্তরাঞ্চলের সব রুটের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানান টিকিট বিক্রেতারা। এখানে রাজশাহী যাওয়ার টিকিট কেটেছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, আগে নেয়া হতো ৩০০ টাকা, এখন নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। তিনি কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়েছেন দাবি করলেও কাউন্টারে খোঁজ নিলে জানানো হয়, টিকিট শেষ। বেশি টাকা দিলে পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে বলা হয়, কোনো সিট নাই। ডাবল টাকা দিলেও লাভ নাই।
গাবতলী টার্মিনালের একজন পরিবহন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টিতে দুটি লাভ। প্রথমত, অগ্রীম টিকিট দিয়ে ঈদের আগে যানজটের কারণে সিডিউল রক্ষা করতে না পারলে কাউন্টারের কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়তে হয়।
টিকিট সঙ্কটের ব্যাপারে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কামাল হোসেন নামে এক কর্মকর্তা জানান, এবার আগে থেকেই টিকিট সঙ্কটের আশঙ্কা ছিল। কারণ সব কোম্পানিই নির্ধারিত ট্রিপের চেয়ে কম টিকিট ছেড়েছে। ঈদের আগে রাস্তাঘাটের অবস্থা কিছু ভালো হলে ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোও হতে পারে।