
কর্মশালায় উপস্থিত (বাঁ থেকে) কেশব লাল দাশ, সুনীল চন্দ্র ধর, ছবি হরি দাশ, শ্যামল কান্তি ঘোষ, হামিদুর রহমান, মনজুরুল আনোয়ার ও এম এনামুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই রাজধানীর খামারবাড়িস্থ আ.কা.মু গিয়াসউদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র আওতাধীন সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডিএই’র হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ সুনীল চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই’র মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মন্ডল এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা উইং) মো. মনজুরুল আনোয়ার। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডিএই’র সাবেক মহাপরিচালক এম এনামুল হক এবং উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের পরিচালক ছবি হরি দাশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীদের জন্য আজ আমাদের বিভিন্ন ধরণের ফল সাধারণ মানুষের নিকট পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। সাইট্রাস জাতীয় ফলে যেহেতু ভিটামিন সি’র পরিমাণ বেশি এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়ক; সেহেতু এ ফলের বিষয়ে আমাদের অধিক সচেতন হতে হবে; আমাদের নিয়মিত কর্মসূচির মধ্যে সাইট্রাস জাতীয় ফলকে নিয়ে আসতে হবে। এ সময় তিনি সারা বছর সাইট্রাস জাতীয় ফসল চাষাবাদের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রকল্পটির সমন্বয়কারী পরিচালক কৃষিবিদ কেশব লাল দাশ। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে সাইট্রাস জাতীয় ফল মাল্টা, কমলা, বাতাবী লেবু ও কলম্বো লেবু চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ ভিটামিন সি’র অভাবে ভুগছে। সাইট্রাস জাতীয় ফলের চাষাবাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের মানুষের ভিটামিনের অভাব দূরীকরণের পাশাপাশি এসব ফলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সাইট্রাস জাতীয় ফলের চাষাবাদ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে তিনি এ ফল চাষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় প্রকল্পভুক্ত এলাকার উপ-পরিচালক, সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট অফিসার এবং কৃষক প্রতিনিধিরাও তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পভুক্ত এলাকার কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সুপারিশ উপস্থাপন এবং উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

