নিজস্ব প্রতিবেদক : নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের ব্যাপারে আপিল বিভাগ কোনো আদেশ না দেয়ার ‘আশঙ্কা’ করছেন তার পরিবার ও আইনজীবীরা।
হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে আদেশের বিষয়টি কয়েকবার পিছিয়ে যাওয়ার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শারীরিক অসুস্থতা আরো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী ও পরিবার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফখরুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগির হোসেন লিওন বলেন, ‘আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে সঠিক সময়ে জমা না দেয়ায় বুঝা যায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি। এ কারণে আমার মক্কেল আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন বলেই আশঙ্কা করছি।’
বুধবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ ফখরুলকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিষয়ে আদেশ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফখরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে জমা না হওয়ায় এ ব্যাপারে আদেশ দেননি আদালত। ফখরুলের আইনজীবীরা আদালতে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গেলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি মেডিকেল প্রতিবেদন এখনো পাইনি, এ জন্য আজ এ ব্যাপারে কোনো আদেশ দিবো না।’ এসময় প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘আমি মেডিকেল প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে আদেশ দেবো। আমি দেশেই আছি। দেশের বাইরে যাবো না। যখন আদালতে মেডিকেল প্রতিবেদন আসবে তখন আমরা এ ব্যাপারে আদেশ দেবো।’ এসময় আদালত থেকে বেরিয়ে আসেন ফখরুলের আইনজীবীরা।
আজ আদালতে ফখরুলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট,ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, বারিস্টার এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট সগির হোসেন লিওন, ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে বেলা ৯টার পর ফখরুলের বিষয়টি আদেশের জন্য আপিল বিভাগে আসে। কিন্তু ফখরুলের আবেদনের সঙ্গে মেডিকেলের প্রতিবেদন যুক্ত না হওয়ায় আদেশের জন্য সময় নেন আদালত। আদালত বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টায় আসেন, মেডিকেল রিপোর্ট মূল নথির সঙ্গে যোগ হলে আমরা আদেশ দেবো।’ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান ফখরুলের একজন আইনজীবী।
এর আগে গত ৫ জুলাই ফখরুলকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি করে ৮ জুলাই ফখরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
পল্টন থানায় করা পৃথক তিন মামলায় গত ২১ জুন হাইকোর্ট মির্জা ফখরুলের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি করে আদেশের জন্য রোববার দিন ঠিক করে দেন। কিন্তু রোববার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে ফখরুলের আইনজীবীদের জমা দেয়া পুরনো মেডিকেল প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুললে আপিল বেঞ্চ নতুন করে মেডিকেলে বোর্ড গঠন করে ৮ জুলাই প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
ফখরুলের বিরুদ্ধে নাশকতার আরো তিন মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন গত ২৮ জুন বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
ছয় মাস ধরে কারাবন্দি ফখরুল বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। ফখরুল অসুস্থ হয়ে পড়লে আদালতের নির্দেশে গত ১৩ জুন তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
চলতি বছর বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে আটক করে তাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিচারিক আদালতে এসব মামলায় জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে যান ফখরুলের আইনজীবীরা। এর মধ্যে পল্টন থানায় গাড়ি পোড়ানো, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের এক মামলায় গত ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পান মির্জা ফখরুল।
এরপর পল্টন থানার দু’টি এবং মতিঝিল থানার এক মামলায় ১৮ জুন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ফখরুলকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
আর পল্টন থানার অন্য তিন মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর হয় গত ২১ জুন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আদেশ স্থগিতে আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও ফখরুলের জামিন বহাল থাকে। বর্তমানে ২১ জুনের আদেশের বিষয়টি আপিল আদালতের বিবেচনাধীন।

