ঢাকাTuesday , 7 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজৈর ও মুকসেদপুর সাব-রেজিস্ট্রি
অফিসে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য

Link Copied!

madaripurবিশেষ প্রতিনিধি : মাদারীপুরের রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি চলে আসছে। এখানে দলিল প্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদি কেউ ১ লাখ টাকার জমি ক্রয় করে তাহলে তাকে দলিল করার জন্য ১ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।
অফিস সূত্রে জানা যায়, টিসি ক্যাশ কালেক্টর মো. চুনুœ মিয়া এই চাঁদার টাকা উত্তোলন করেন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বসেই এ টাকা আদায় করেন তিনি। আরও জানা গেছে, প্রত্যেক দলিল লেখককেও দলিলের মোট টাকার ১০% হারে চাঁদা দিতে হয়।
সপ্তাহে রোববার ও সোমবার ২ দিন মাদারীপুরের রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এবং মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। এই দুই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মো. লুৎফর রহমান মোল্লা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যেদিন দলিল রেজিস্ট্রি হয় সেদিন এ দুই অফিসে চলে চাঁদা আদায়ের মহোৎসব। ছদ্মবেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টিসি ক্যাশ কালেক্টর মো. চুন্ন মিয়ার উপর নজর রাখলে সহজে তাকে হাতেনাতে ধরা যাবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একজন দলিল লেখককে সারাদিনে ১০ হাজার টাকার চাঁদা দিতে হয়। এভাবে ৪০ জন দলিল লেখক সপ্তাহে ২ দিন যে দলিল লেখেন তার ১০% হারে টিসি ক্যাশ কালেক্টর মো. চুন্নু মিয়াকে কমিশন দিতে হয়। ফলে দলিল রেজিস্ট্রির খরচ বেড়ে যায়। আর এতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে দলিল গ্রহীতাদের। ১ লাখ টাকার দলিল রেজিস্ট্রি করতে যেখানে ১০ হাজার টাকায় হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে দলিল লেখকরা নিচ্ছেন ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ কিছু দলিল লেখক, সাব-রেজিস্ট্রার এবং টিসি ক্যাশ কালেক্টর মো. চুন্নু মিয়ার যোগসাজসে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। কিন্তু এ চাঁদাবাজি নিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে দলিল লেখক সমিতি সবই যেন নিরব। জানা গেছে, চাঁদার একটা নির্দিষ্ট অংশ দলিল লেখক সমিতিতে দেওয়া হয়। তাই দলিল লেখক সমিতি নীরব ভূমিকা পালন করে। তা ছাড়া রাজৈরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. লুৎফর রহমান মোল্লাকেও এই চাঁদার বড় অংশ দেওয়া হয়।
সাব-রেজিস্ট্রার মো. লুৎফর রহমান খাস কামরায় বসে জাল দলিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে মোট অংকের উৎকোচ আদায় করেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মচারি জানান, ২০১৪ সালে সাব-রেজিস্ট্রার মো. লুৎফর রহমান মোল্লার ভাই দলিল গ্রহীতা মো. লোকমান মোল্লার ৫১৮৭, ৫১৮৯, ৫১৯০নং দলিলের দাগ বালামে পরিবর্তন করে ভলিউমে দ্বিগুণ জমি রেজিস্ট্রি দেখান সাব-রেজিস্ট্রার নিজেই। এ ছাড়া ২০১৫ সালে দলিল লেখক শামসু মোল্লা ও সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা ১০৯৯নং দলিলের শ্রেণী পরিবর্তন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
এ ছাড়া ৪৭৯নং দলিলের জমি রাজৈর পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত হওয়া সত্ত্বেও সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক পৌরসভার বাইরের জমি দেখিয়ে কম মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করে। বাকি টাকা সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক আত্মসাৎ করে। এখানেও সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এ ছাড়াও ১৭৭৭নং দলিলের দাতা ও গ্রহীতার ছবি পরিবর্তন করে জাল দলিলের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা। দুর্নীতিবাজ এ সাব-রেজিস্ট্রারের স্বেচ্ছাচারিতা ও বেআইনী কর্মকা-ে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছে টিসি ক্যাশ কালেক্টর ও দলিল লেখক সমিতি।
এদিকে, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা অফিস করেন। মুকসেদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও সাপ্তাহে ৩ দিন চলে ঘুষবাণিজ্য। এই ঘুষের টাকার একটা রড় অংশ লুৎফর রহমানের পকেটে যায় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে।
রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ক্যাশ কালেক্টর মো. চুন্নু মিয়া এ ব্যাপারে বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষতুœ করছে। তিনি বলেন, আমি কোন চাঁদা নেই না এবং এ ব্যাপারে আমি জড়িত নই।
এ বিষয়ে রাজৈর ও মুকসেদপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা জানান, একটা চক্র সুবিধা না পেয়ে আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাজৈর ও মুকসেদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোন চাঁদাবাজি হয় না। এটা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।