ঢাকাSunday , 5 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইলিশের আকাল, হাহাকার জেলেপাড়ায়

Link Copied!

boatচাঁদপুর প্রতিনিধি : এবছরও নদীতে ইলিশের আকাল। জেলেদের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝিতেও পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের দেখা নেই। এতে চাঁদপুরের মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা মহাবিপাকে পড়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার চর-জাহাজমারা, চর-লগ্মিমারা, রাজরাজেশ্বর, বলাসিয়া, মাঝেরচর, ইব্রাহিমপুর, সাখুয়া, লক্ষ্মীপুর, হরিণা, হাইমচরের কাটাখালী, আলগী, মাঝেরচর, ঈশানবালা, মতলব উত্তরের চরওয়েস্টার, চরকাশিম, চরএলেন, খুনেরচর, নাছিরারকান্দিচর, বাহেরচর, চরজিংকিং, বালুচরসহ এখলাছপুর, ষাটনল মালোপাড়া, মতলব দক্ষিণের আমিরাবাজসহ মেঘনা পাড়ের হাজারো জেলে পরিবারের বসবাস। তাদের জীবিকা চলে নদীতে মাছ শিকার করে। এ বছর নদীতে মাছ না পাওয়ায় এসব পরিবারে বিরাজ করছে নীরব হাহাকার। ইলিশের দেখা না পাওয়ায় তাদের সংসার এখন অনেকটা অচল।
মেঘনার পাড় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জেলে পরিবারের সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। এনজিও’র কিস্তি আর মহাজনের দেনার ভয়ে জেলে ও মাঝি-মাল্লারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল বাবুবাজার জেলে নৌকার মহাজন মিন্টু বলেন, ‘একবার জাল-জেলে নিয়ে মাছ ধরার জন্য নদীতে যেতে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর জেলেদের ফিরতে হয় শূন্য হাতে।
নদীপাড়ের লোকজন জানায়, সরকারের নিষেধ অমান্য করে জাটকা শিকার করায় ভরা মওসুমেও ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেদের এ দুর্গতির জন্য তারাই দায়ী। ষাটনল মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি বদর উদ্দিন মিয়াজী বলেন, আমরা জেলেদের পেছনে হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করি। মাছের মওসুমে মাছ দিয়ে তাদের দেনা শোধ করার কথা। কিন্তু এখন নদীতে মাছ না পেয়ে জেলেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এখলাসপুর এলাকার মৎস্যজীবী শ্রীনিবাস বলেন, ‘আমরা নদীতে মাছ না পাওয়ায় অনেক কষ্টে আছি। আমাদের কষ্ট শোনার বা দেখার কেউ নেই। সরকার জাটকা রক্ষায় অনেক উদ্যোগ নিলেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
ইলিশ-1চাঁদপুর সদর উপজেলার নরসিংহপুর ফেরিঘাটের মাছের আড়ৎদার মোক্তার খান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মৎস্যজীবী শ্রীনিবাস বলেন, মাছ ধরা বন্ধের অভিযানের সময় আমরা নদীপাড়ের আড়ৎদাররা আড়ৎ বন্ধ করে রাখি। আর সরকারি দলের কিছু দুষ্কৃতকারীর প্ররোচণায় ওই সময় মাছ ধরা হয়। শরীয়তপুর দিয়ে ওই মাছ বিভিন্নস্থানে পাচার হয়। তা কেউ দেখেও দেখে না। ফলে এখন ভরা মওসুমে আমরা মাছ পাই না। আমরাও লাখ-লাখ টাকা তাদের কাছে দাদন দিয়ে ব্যবসা করতে পারছি না।
শ্রীনিবাস আরো অভিযোগ করেন, বেছে বেছে সরকারি দলের নেতাদের বিভিন্ন সময় মৎস্য অনুদান দেয়া হয়, দেয়া হয় ফিশিং বোট। কিন্তু আমরা যারা সারা বছর মাছের ব্যবসা করি, সরকারের নিষেধের সময় মাছ বেচা-বিক্রি বন্ধ রাখি তারা কিছুই পাই না।
উল্লেখ্য, বর্ষা মওসুমে সবসময়ই ইলিশসহ অন্যান্য মাছ প্রচুর পাওয়া যেতো। কিন্তু ২/৩ বছর ধরে ভরা মওসুমেও মাছ তেমন একটা পাচ্ছে না জেলেরা। ফলে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। তাদের সন্তানরা অর্থাভাবে স্কুলে না গিয়ে নদীতে মাছ ধরতেই যাচ্ছে পূর্বপুরুষদের মতো।