ঢাকাSaturday , 4 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অ্যাপোলো হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ

Link Copied!

apolloনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর অভিজাত হাসপাতাল অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় ও চিকিৎসকের দায়িত্বহীনতায় মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্তানসম্ভবা এক নারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকের অবহেলায় শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। আর সেই মৃত বাচ্চা প্রসবে নেয়া হয়েছে এক লাখ ৫২ হাজার টাকা।
ওই মৃত সন্তানের বাবা আমিনুল হকের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ হাসপাতালে গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক পুলিশকে এড়িয়ে যান।
ব্যবসায়ী আমিনুল হক জানান, তিনি পরিবার নিয়ে উত্তরায় থাকেন। গত বছরের নভেম্বরে তার স্ত্রী রিংকু হক অসুস্থ বোধ করলে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখনই জানা যায় তিনি গর্ভবর্তী। পরক্ষণেই তিনি অ্যাপোলো হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনোয়ারা বেগমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাপোলোতেই চার মাস পর প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে তা দেখে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে। তবে আল্টাসনোগ্রামকারী ডা. আতিয়া হুদা জানান, বাচ্চার একটু সমস্যা আছে। চিকিৎসককে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, কোনো সমস্যা নেই। চিকিৎসক ৭ জুলাই সন্তান প্রসবের দিনক্ষণ ঠিক করে দেন।
ছয় মাস পর দ্বিতীয়বার অ্যাপোলোতেই আল্টাসনোগ্রাম করা হলে চিকিৎসক আবারো বলেন সবকিছু ঠিক আছে। অথচ এ দফায়ও আল্ট্রাসনোগ্রামকারী জানান বাচ্চার সমস্যা আছে। কিন্তু চিকিৎসক সমস্যা নেই বলাতে আমিনুল হক দম্পতি আশ্বস্ত ছিলেন। সর্বশেষ গত ১৪ জুন তৃতীয় দফা আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসক একই কথা বলেন। তবে আল্ট্রাসনোগ্রামকারী এবার খুবই সতর্ক করে দেন। তাতেও ভ্রুক্ষেপ করেননি চিকিৎসক মনোয়ারা বেগম। সর্বশেষ ২৮ জুন আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর আল্ট্রাসনোগ্রামকারী বলেন, বাচ্চা সম্ভবত মারা গেছে। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি বলেন, একটু সমস্যা আছে, আপনারা ভর্তি হয়ে যান কোনো অসুবিধা হবে না। পরক্ষণেই তিনি বলেন, বাচ্চার যেটা সমস্যা আছে তাতে মনে হচ্ছে জন্মের পরই বাচ্চাটি মারা যেতে পারে।
আমিনুল হক বলেন, ‘ডাক্তারের এমন কথা শোনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করি। চিকিৎসকের পরামর্শে এক লাখ ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে ওই দিনই রিংকুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক ব্যস্ততার কথা বলে পরের দিন দুপুর ২টায় সিজারের সময় দেন। অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও আগে সিজার করতে রাজি হননি তিনি। তারপরও ২টায় না করে ব্যস্ততা দেখিয়ে ৩টার সময় সিজার করেন। এতে মৃত বাচ্চা জন্ম নেয়।’
আমিনুলের অভিযোগ এরপর আর ওই চিকিৎসক আমিনুলকে দেখা দেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে, লিখিত দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২৯ জুনই তিনি লিখিত দেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় গত বুধবার তিনি ভাটারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি হাসপাতালে তদন্তে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যস্ততা দেখিয়ে চিকিৎসক কোনো কথা বলেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও খুব একটা সহযোগিতা করছে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে। এরপরই বোঝা যাবে কী ঘটেছে। আপাত দৃষ্টিতে চিকিৎসকের অবহেলা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পর বৃহস্পতিবার অভিযোগটি মামলা (নম্বর ৫, ২ জুলাই ১৫) হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।’
আমিনুল বলছেন অন্য চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে সিজার করলে বাচ্চটিকে বাঁচানো যেত।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মুত্তাকিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা হিসেবে সেটি নথিভুক্ত করে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজা হলেও পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসককে পেলেই বোঝা যাবে আসল ঘটনা কী ঘটেছে।’