নিজস্ব প্রতিবেদক : বিক্রির দ্বিতীয় দিনেই আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট হাওয়া। ঘরমুখো মানুষ আগামী ১৬ এবং ১৭ জুলাইয়ের টিকিট কিনতে এসে বিপাকে পড়েন। এই দু’দিনের অধিকাংশ টিকিটই কালোবাজারিদের হাতে চলে গেছে বলে টিকিট সংগ্রহে আসা যাত্রীরা জানান। এসব কারণে নিরাপদে আসন্ন ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন গ্রামমুখি মানুষ।
শনিবার দুপুরে গাবতলীতে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল শুক্রবার অর্থাৎ প্রথমদিনের মতো ভোররাত থেকে কাউন্টারগুলোতে ভিড় করেন টিকিট ক্রেতারা। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছেন না তাদের কাঙ্ক্ষিত টিকিট। বিশেষ করে ঈদের আগের দু’দিনের টিকিট একেবারেই হাওয়া। তবে কাউন্টারের লোকজনকে অতিরিক্ত টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে গন্তব্যের টিকিট। এতে এটাই প্রমাণ করে টিকিট কালোবাজারে চলে গেছে। এমন অভিযোগ করেন অনেকেই।
এদিকে সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও টিকিট সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অনেকে সেহেরি খেয়েই কাউন্টারের সামনে এসে লাইনে দাঁড়ান। গাবতলী বাস টার্মিনালে ঈগল, হানিফ, সোহাগ, শ্যামলী, একে ট্রাভেলস, এস আলমসহ বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে মানুষের দীর্ঘ লাইন।
তবে যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, অগ্রিম টিকিট কয়েক দিন ধরে বিক্রি হওয়ার কথা, কিন্তু বিক্রির দ্বিতীয় দিনেই টিকিট শেষ। এটা কেমন কথা? রংপুরগামী যাত্রী মো. মিয়াজান জানান, অধিকাংশ কাউন্টারের টিকিট কালোবাজারে চলে গেছে! বেশি টাকা দিলেই কাউন্টারের লোকজন অন্যস্থান থেকে টিকিট এনে দেয়।
বরিশালগামী যাত্রী মো. আসাদ মিয়া জানান, সাকুরা পরিবহনের টেকনিক্যাল কাউন্টার থেকে সকাল ৭টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু সাড়ে ৮টার দিকেই কাউন্টার থেকে জানানো হয় টিকিট শেষ। তবে অনেক অনুরোধে এবং বাড়তি টাকায় কেউ কেউ টিকিট পেয়েছেন।
গাবতলীতে গিয়ে কথা হয় রেজাউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি নাটোরের টিকিট কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘একদিকে কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে টিকিট নেই। অন্যদিকে বাড়তি টাকা দিলে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়। তাছাড়া নাটোরের ভাড়া ৩৫০ টাকা। কিন্তু নেয়া হচ্ছে ৫৬০ টাকা। তারপরও টিকিট নেই।’
ঢাকা-খুলনাগামী একে ট্রাভেলস কাউন্টারের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, কাউন্টারে ও অনলাইনে একযোগে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে একটু এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে কাউন্টারের লোকজন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সুষ্ঠুভাবে টিকিট বিক্রির জন্য।
কল্যাণপুর কাউন্টারে কথা হয় সৈয়দপুরগামী মো. আওয়ালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হানিফ, নাবিল পরিবহন কিংবা শ্যামলী কোনোটাতেই টিকিট নেই। তবে শেষ পর্যন্ত বাসের টিকিট না পেলে ট্রেনের জন্য কমলাপুর স্টেশনে লাইন দিতে হবে।’
কল্যাণপুরে নাবিল পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হলো, ই-মেইলেই প্রচুর টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। হানিফ পরিবহনেও একই অবস্থা। যারা ই-মেইলে টিকিট কিনেছেন তাদের ভোগান্তি কম। যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এক কাউন্টারে টিকিট না পেলে অন্য কাউন্টারে লাইন দিতে হয়।
অতিরিক্ত ভাড়া প্রসঙ্গে টিকিট বিক্রেতারা জানান, ভাড়া কিছুটা বেশি নেয়া হচ্ছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে টিকিট প্রতি ৭০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে।

