নিজস্ব প্রতিবেদক : কয়েক দিন পরই মুসলিম জাহানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হবে। ইতোমধ্যে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন দলটির নেতারা। তাদের অনেকেই এবার ঢাকায় ঈদ করছেন। আবার কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়েও ঈদ উদযাপনের কথা ভাবছেন।
তবে আন্দোলনের ব্যর্থতায় শীর্ষ নেতাদের মধ্যেকার মনোমালিন্য, হাইকমান্ডের প্রতি তৃণমূলের অনাস্থা, আটক নেতাদের মুক্তিতে বিলম্ব এবং দল পুর্নগঠনে অচল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় নেতাকর্মীদের ঈদ-আনন্দে এবার খানিকটা ভাটা পড়েছে। আর সে কারণেই বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা ঢাকাতেই ঈদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা হয় । তারা বলেছেন, ঈদ মানেই আনন্দের বিষয়। তবে দেশ ও বিএনপির বর্তমান অবস্থায় সেই আনন্দের পরই আমাদের দল পুনর্গঠন ও সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কারণ দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ সরকারের হাতে জিম্মি। তাদেরকে স্বৈরাচার সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
কে কোথায় ঈদ করবেন
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির খান জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবার ঈদ উদযাপন করবেন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশিষ্ট নাগরিক, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিয়ম করবেন খালেদা জিয়া। পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করে বাসায় ফিরবেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ঢাকাতেই পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। তিনি বলেন, ‘ঈদ আমি ঢাকাতেই করবো এবং ঈদের দিনটি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়েই উদযাপন করবো।’
এবার ঈদের আনন্দকে আপনি কিভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঈদ মানেই আনন্দ ও হাসি ঠাট্টা। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীরা জেলে এবং অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এই অবস্থায় ঈদের আনন্দ কোথায় পাই?’
বিএনপির আরেক প্রভাবশালী সদস্য নজরুল ইসলাম খান ঈদ উদযাপন করবেন রাজধানীতেই। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন করবো। তবে এবারের ঈদ উদযাপন গত ঈদ উদযাপনের মতো হবে না। কারণ এবারের ঈদ গ্রামের বাড়িতে করতে পারবো না। কারণ যুমনার নদীতে আমাদের ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ঢাকাতেই ঈদ করতে হবে।’
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমানও ঈদ উৎসব উদযাপন করবেন ঢাকায়। যদিও তিনি বর্তমানে তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জে অবস্থান করছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ঈদের আনন্দ আমি পরিবারের সকলকে নিয়ে উদযাপন করবো। তবে এবারের ঈদের আনন্দ একটু ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বিএনপির অনেক নেতা কারাগারা রয়েছেন। আমার এলাকার অনেক নেতারাই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এলাকা থেকে যারা আমার ঢাকার বাড়িতে আসছেন তাদের যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার তা আমি করছি। তাই মনের ভেতর কষ্ট থেকেই যাচ্ছে।’
চেয়ারপারসনরে উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবার ঈদ উদযাপন করবেন ঢাকার বাইরে নিজ গ্রাম বরগুনায়। তিনি বলেন, ঈদের সময় রাস্তার চলাচল ও দেশের রাজনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকলে অবশ্যই নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করবো।
বিএনপির দুর্দিনের কাণ্ডারি ড. আসাদুজ্জামান রিপন। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দলের এই মুখপাত্র এবারও পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় ঈদ করবেন। তিনি বলেন, ‘সারাদেশের সাধারণ মানুষের মতো আমিও এবার ঈদ উপযাপন করবো। ঈদ ধর্মীয় বিষয়। আর সব মুসলিম জাহানের জন্য পবিত্র রমজানের শেষে ঈদ আসে। তাই ঈদ আনন্দ নিয়েই উদযাপন করবো। তবে কিছুটা কষ্টও থাকবে, কারণ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জেলে আটক আছেন। তারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারলে ভালো লাগতো।’
দলের যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবারও ঈদ উদযাপন করবেন রাজধানীতে। তিনি বলেন, ‘বিগত ঈদগুলোর ন্যায় এবারের ঈদ উদযাপন ভিন্ন হবে। দলের সকল নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি আছেন। তাই ঈদের আনন্দ অনেকটা কষ্টে পরিণত হয়েছে।’
এছাড়া বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালামও ঢাকায় ঈদ করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবো।’
হেলেন জেরিন খান বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য। তিনি এবার নিজ গ্রাম মাদারীপুরে ঈদ উদযাপন করবেন। তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদ উদযাপন ভালো হবে না। কারণ বিএনপির অনেক নেতাই কারাগারে ও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের পরিবারের কথা মনে হলে আনন্দের কথা মনে আসে না।’
কারাগারে ঈদ: বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই কারাবন্দিদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এবার তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, মোসাদ্দেক আলী ফালু, যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রমুখ। তবে এর মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী, রুহুল কবির রিজভী ঈদের আগে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ভারতের কারাগারে বন্দি অবস্থায় এবারের ঈদ উদযাপন করবেন। রাজধানীর উত্তরা থেকে গত ১০ মার্চ গভীর রাতে নিখোঁজের ৬২ দিন পর শিলংয়ে সন্ধান পাওয়া যায় বিএনপির এ নেতাকে।

