ঢাকাThursday , 2 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তুলা চাষ সম্প্রসারণে বাস্তবায়িত হচ্ছে বিভিন্ন কার্যক্রম

Link Copied!

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের পাকুটিয়া ইউনিটের ক্ষেত থেকে তুলা উত্তোলন করছেন চাষিরা

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের পাকুটিয়া ইউনিটের ক্ষেত থেকে তুলা উত্তোলন করছেন চাষিরা

হাসান রেজা : দেশে তুলা চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তুলা উন্নয়ন বোর্ড এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে বলে জানা গেছে।

দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ, আধুনিক ও লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, চাষিদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধকরণে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ‘নিবিড় তুলা চাষ কর্মসূচি’টি বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে দেশের তুলা চাষ, উৎপাদন ও সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিবিড় তুলা চাষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ফলে দেশের নদী অববাহিকার চরাঞ্চল, লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকাসহ সারা দেশের তুলা উৎপাদন এলাকায় তুলা চাষে লাগসই ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে তুলা চাষ, উৎপাদন ও সম্প্রসারণে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণসহ চাষাবাদে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে। চাষিদের নিকট উন্নত প্রযুক্তি জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে সমভূমির তুলার ব্লক প্রদর্শনী স্থাপন, চুক্তিবদ্ধ চাষিদের মাধ্যমে সমভূমির তুলার প্রত্যায়িত মানের অথবা মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, তুলা উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তি চাষিদের নিকট হস্তান্তরের জন্য প্রদর্শনী ক্ষেত্র স্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছেন কর্মসূচি সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অনেক তুলা চাষি এ প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারকরণেও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে কর্মসূচির মাধ্যমে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও তুলা চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে দেশের তুলার উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে-এমন অভিমত কর্মসূচি সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তুলা চাষ সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে জুলাই-২০১২ সালে নিবিড় তুলা চাষ কর্মসূচি কার্যক্রম শুরু করে এবং গত জুন মাসে তা সমাপ্ত হয়। কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকা যশোর, ঝিনাইদহ জোন ও ঝালকাঠি জেলার লবণাক্ত এলাকাসহ ১৩টি জোন অর্থাৎ, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, ঠাকুরগাও, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাংগা, যশোর, ঝিনাইদহ, রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এবং অধীনস্থ কটন ইউনিট/সাব-ইউনিট সমূহের চরাঞ্চল ও খরাপ্রবণ এলাকায় তুলা চাষে বিভিন্ন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণধর্মী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ফলে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা তুলা আঁশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের কিয়দাংশ পূরণে সক্ষম হয়েছে এবং গবাদি পশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে খৈলের যোগান দেয়া সম্ভব হয়েছে। এতে তুলাভিত্তিক শিল্পের প্রসার ঘটেছে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার হয়েছে বলে মনে করে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।

জানতে চাইলে কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, তুলাচাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলা উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তি চাষিদের নিকট হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে প্রদর্শনী ক্ষেত্র স্থাপন করা হয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও তুলাচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তুলা উৎপাদন জোরদার করা হয়েছে, চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তারা অধিক ফলন পাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, কর্মসূচির মাধ্যমে চরাঞ্চল, লবণাক্ত, খরাপ্রবণ ও পাহাড়ি এলাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় তুলা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চাষি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে যা তাদের দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে; নারী চাষিরা এতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে-অভিমত কর্মসূচি পরিচালকের।

কর্মসূচির মাধ্যমে তুলাবীজ উৎপাদন কার্যক্রম, ব্লক প্রদর্শনী, জাতভিত্তিক প্রদর্শনী, পাহাড়ি তুলার বীজ উৎপাদন কার্যক্রম ও প্রদর্শনী, মাঠকর্মী প্রশিক্ষণ, তুলা খামারে চুক্তিবদ্ধ তুলাচাষি প্রশিক্ষণ, একদিনের তুলাচাষি প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, কৃষি প্রযুক্তি মেলা, স্প্রে মেশিন ক্রয়, রোলার জিনিং, প্রচার ও মুদ্রণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।

কর্মসূচি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১২-১৩ মৌসুমে ২৩ হেক্টর, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৬০ হেক্টর এবং ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১১৪ হেক্টর অর্থাৎ তিন অর্থবছরে মোট ১৯৭ হেক্টর জমিতে বীজ উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০১২-১৩ মৌসুমে ৫ হেক্টর, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ১৫ হেক্টর ২০১৪-১৫ মৌসুমে ২৭.৫০ হেক্টর মোট ৪৭.৫০ হেক্টর জমিতে ব্লক প্রদর্শনী করা হয়েছে। ২০১২-১৩ মৌসুমে ৫০টি, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ১২০টি, ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৭৮টি তিন বছরে মোট ৩৪৮টি জাতভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন  করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ প্রতি মৌসুমে ৭৫ হেক্টর করে মোট ১৫০ হেক্টর জমিতে পাহাড়ি তুলার বীজ উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৩০টি, ২০১৪-১৫ মৌসুমে ২৫টি সর্বমোট ৫৫টি পাহাড়ি তুলার প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের তুলা ক্ষেত পরিদর্শনকালে চাষির (মধ্যে) কথা শুনছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন। পাশে (সর্বডানে) ‘নিবিড় তুলা চাষ কর্মসূচি’র কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের তুলা ক্ষেত পরিদর্শনকালে চাষির (মধ্যে) কথা শুনছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন (বাঁ থেকে দ্বিতীয়)।  সর্বডানে ‘নিবিড় তুলা চাষ কর্মসূচি’র কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা

উন্নত প্রযুক্তি চাষিদের নিকট জনপ্রিয় করার জন্য সমভূমির তুলার ব্লক প্রদর্শনী স্থাপন, চুক্তিবদ্ধ চাষিদের সমভূমির তুলার প্রত্যায়িত মানের, মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা চাষিদের মাঝে স্বল্প মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে ১০০ জন মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ৩টি গবেষণা কেন্দ্রে ১৬০ জন চুক্তিবদ্ধ তুলাচাষিকে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন জোনে সর্বমোট ৬ হাজার ২শ’ জন তুলাচাষিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। রাজশাহীর বরেন্দ্র ও পাহাড়ি অঞ্চল এবং সমতল ভূমিতে তুলাচাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৩টি কর্মশালার মাধ্যমে ২২৫ জন ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৪টি কর্মশালার মাধ্যমে ৪০০ জনসহ মোট ৬২৫ জন অংশগ্রহণ করেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও মাঠকর্মীদের বাংলা একাডেমি, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব বায়োটেকনোলজি, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মসূচি থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হয় বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া তুলাচাষ প্রযুক্তি প্রদর্শন ও কৃষকদের তুলাচাষে উদ্ধুদ্ধ করার লক্ষ্যে বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়া কৃষি প্রযুক্তি মেলায় নিবিড় তুলাচাষ কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন ও আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তুলাচাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তুলাচাষিদের ব্যবহারের জন্য ১০টি জোনে ২১টি পাওয়ার স্প্রে মেশিন ও ২৪৬টি ন্যাপসেক হ্যান্ড স্প্রে মেশিন ক্রয় করা হয়। এগুলো তুলা ফসলের পোকামাকড় দমনের জন্য চাষিদের স্বল্প মূল্যে ভাড়া প্রদান করা হয়।

কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুলা উন্নয়ন বোর্ডে ইতোপূর্বে কোন রোলার জিনিং মেশিন না থাকায় তুলার গুণগতমান সম্পন্ন আঁশতুলা ঠিক রাখার লক্ষ্যে ২০১৩-১৪ মৌসুমে একটি ডাবল রোলার জিনিং মেশিন ক্রয় করা হয় যা যশোর তুলা গবেষণা কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ গুনগত মানসম্পন্ন আঁশতুলা জিনিং করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঐ সূত্রটি।

এ বিষয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের ৩২টি জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশের খরাপ্রবণ বরেন্দ্র ভূমি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও চরাঞ্চলের যেসব এলাকা অন্যান্য ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী সেসব এলাকাকে আমরা তুলা চাষের আওতায় নিয়ে এসেছি। পাহাড়ি অঞ্চলে আগে আদি জাতের তুলা চাষ হতো; এ অঞ্চলে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে চাষিরা এখন সমভূমির (হাইব্রিড) তুলা চাষ করছে যার উৎপাদন প্রায় ৪ গুণ বেশি। এভাবে আমরা মূল খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত না করে বিভিন্ন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণধর্মী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ৮-১০ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।

তুলার অর্থনৈতিক উপযোগিতা সম্পর্কে ড. মো. ফরিদ উদ্দিন আরো বলেন, চলতি বছর তুলা থেকে ৬শ’ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল উৎপাদিত হয়েছে; এ ছাড়া ২ হাজার মেট্রিক টন খৈল পাওয়া গেছে যা মৎস্য ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া তুলা গাছ গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

তুলা চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর আন্তরিকতা ও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তুলাচাষিদের লাভবান করতে ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে তুলা চাষে সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা আরো বৃদ্ধির আবেদন জানান তিনি।