নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংকিং খাতে লুটপাট প্রসঙ্গে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিএনপির দাবির প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে রাজধানী নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে উদ্দেশ্য করে আসাদু্জ্জামান রিপন বলেন, ‘আপনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের লোকেরাই অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। তাই আপনার কাছে আমরা জানতে চাই ও জিজ্ঞাস করতে চাই এবং দাবি করতে চাই, এই দুষ্টু লোকগুলো কারা, তাদের মুখোশ উন্মোচন করুন। আপনি যখন মুখ খুলেছেন তখন একটু কেঁশেই লুটপাটের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করুন। কারণ জাতি আপনার কাছে নাম গুলো জানতে চায়।’
এসময় আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক খাতের টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ড. রিপন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুর্নীতি আপনি বন্ধ করতে পারেননি। তাই আপনার অক্ষমতা ও ব্যর্থতার জন্য পদত্যাগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনি সেটা করনেনি।’
তিনি বলেন, ‘মুহিতের সাহেবের অনেক বয়স হয়েছে। তাই তিনি মাঝে মধ্যে সত্য কথা বলে ফেলেন। দেশপ্রেমের কারণই তিনি অর্থলুটের সঙ্গে কারা জড়িত তাদের কথা বলেছেন।’
সরকারের যে সকল মন্ত্রীরা মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় বাড়ি তৈরি করেছেন তাদের নামও প্রকাশ করার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানান রিপন।
আমরা দেশের জিডিপি ৭ শতাংশ করতে চাই কিন্তু বিএনপির জ্বালা-পোড়াও আন্দোলনের জন্য পারছি না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় রিপন বলনে, ‘বিএনপির দোষ না দিয়ে আগে নিজেদের দুর্নীতি বন্ধ করুন। কারণ সরকারি লোকদের দুর্নীতি বন্ধ হলে ৭ শতাংশ নয়, দেশে ৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি করা যাবে।
বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলনে, ‘এটা জনগণের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে এই সফলতা এসেছে। তাই এখানে সরকারের কোন অবদান নেই। কিন্ত সরকারের লোকেরা যদি দুর্নীতি না করতো তাহলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হত।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

