ঢাকাWednesday , 1 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অন্তর্দ্বন্দ্বে অস্তিত্ব সঙ্কটে রাজশাহী জাপা

Link Copied!

JAPAরাজশাহী প্রতিনিধি : চরম সঙ্কটকাল চলছে রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টিতে। কাউন্সিলের আগে হঠাৎ করে জেলা কমিটি ভেঙে দেয়া, নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলের মধ্যে ভাঙা গড়ার খেলা চলছে। এ অবস্থায় জেলা জাতীয় পার্টি ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি অভিজ্ঞদের।
রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টি মূলত টিকেয়ে রেখেছে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব। তবে এ জেলার নেতাদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে জেলা জাতীয় পার্টি। সম্প্রতি জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি কেন্দ্র থেকে ভেঙে দেয়া হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার পরে জেলা জাপার মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো বেশি চরমে উঠেছে। দলটির জেলা শাখার আগের ও বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা এখন মুখোমুখি অবস্থান করছেন।
দলীয় সূত্রমতে, জেলা জাপার আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর নেতৃত্বে দলের সব কার্যক্রম চলতো। হঠাৎ করে কেন্দ্র ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করে। নতুন কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেনকে। আবুল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কোন্দল ছিলো আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর। ইতোমধ্যে নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকরা।
মেয়াদ শেষের আগেই ভেঙে দেয়া হয় রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টির নির্বাচিত কমিটি। গত ৬ এপ্রিল ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলু কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটির ঘোষণা দেন। এতে সাবেক এমপি অধ্যাপক আবুল হোসেনকে রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও শামসুদ্দিন রেন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর কেটে গেছে তিনমাস। এরপরেও দ্বন্দ্বের অবসান হয়নি।
এ ব্যাপারে দলটির রাজশাহী জেলা শাখার আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বাচ্চু বলেন, আগের কমিটির মেয়াদ দুই বছর। বর্তমানে ওই কমিটির মেয়াদের মাত্র এক বছর অতিবাহিত হচ্ছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে ওই কমিটি গঠন করা হয়। দলের হাইকমান্ডের প্রতি প্রশ্ন রেখে বাচ্চু বলেন, মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচিত কমিটি কীভাবে ভেঙে দেয়া যায়? তিনি আরো বলেন, আমরা নবগঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছি।
বাচ্চু দাবি করেন, নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়া হলেও দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই আমার সঙ্গে আছেন। তাই নতুন কমিটি কর্মসূচি নিয়ে এখনো মাঠে নামতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১০ সালে জাতীয় পার্টির ব্যানারে ব্যাপক শোডাউন করে আলোচনায় আসেন শাহাবুদ্দিন বাচ্চু। এর পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচিত হন তিনি। অনেকটাই চাঙা হয়ে ওঠে দল। শাহাবুদ্দিন বাচ্চুকে ঘিরেই মূলত জেলা জাতীয় পার্টি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে চাঙা হয়ে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ করে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। আর এ নিয়েই এখন দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে।
নবগঠিত জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন রেন্টু অভিযোগ করে জানান, আগের কমিটির নেতারা দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। দলের ভেতর স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। এ অবস্থায় দলকে সঙ্কট থেকে রায় ও সুসংগঠিত করতে পার্টির চেয়ারম্যান নতুন ১১১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।
ইতোমধ্যেই নতুন কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে কেন্দ্র রাজশাহী জেলায় শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর থাকার গুরুত্ব বুঝতে পেরে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বলে জাতীয় পার্টির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরমধ্যেই দলের হাইকমান্ড থেকে আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক রেখে আবারো নতুন কমিটি ঘোষণা করার প্রস্তাব করেছে। তবে নতুন কমিটির নেতারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে বলেও শোনা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার প্রভাবশালী এক নেতা জানান, এ ধরনের অবস্থা চলতে থাকলে যেকোনো সময় গণপদত্যাগ করতে পারেন জেলা কমিটিসহ দলটির সর্বস্তরের নেতারা। বর্তমান জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল হোসেন কমিটিতে শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর উপস্থিতি মেনে নিতে রাজি নন।
অপরদিকে শাহাবুদ্দিন বাচ্চুও হাল ছাড়তে নারাজ। চলছে একে অপরকে দোষারোপ। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে সাংগঠনিকভাবে যেটুকু জাতীয় পার্টির অস্থিত্ব রাজশাহীতে আছে অদূর ভবিষ্যতে তাও বিলীন হয়ে যাবে।