নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার না করলে শুক্রবার বাদ জুম’আ বিক্ষোভ মিছিল করবে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম।
বুধবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে রাজধানীর জামি’য়া আরাবিয়া বারিধারা মাদরাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর হেফাজতের আহ্বায়ক আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন ‘কেন্দ্র যে কর্মসূচি দিয়েছে তার সর্বাত্মকভাবে পালনের অংশ হিসেবেই ঢাকা মহানগর হেফাজত শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে মিছিল ও সামবেশ করবে। সে সমাবেশ থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
সরকার লতিফ সিদ্দিকীকে ছেড়ে দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এতে গোটা মুসলমান ও আলেম ওলামারা সংক্ষুব্ধ। আমরা সরকারের কাছে প্রত্যাশা করি, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতের ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব জুনাইয়েদ আল হাবিব।
এদিকে হেফজতে ইসলামের কেন্দ্র থেকে পাঠানো মাওলানা আবু রায়হান সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবারের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা না হলে শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আল্লাহ, রাসুল ও ইসলামের পবিত্র বিধান হজকে কটাক্ষকারী, আত্মস্বীকৃত নাস্তিক লতিফ সিদ্দিকীকে মুক্তি দিয়ে সরকার দেশের সর্বস্তরের মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা ও ধোকাবাজী করেছে এবং নাস্তিক্যবাদী শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
হেফাজত নেতারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকেন। এ মাসকে টার্গেট করে এর পবিত্রতা নষ্ট করার জন্য লতিফ সিদ্দিকীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এটি বস্তুত ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতকারীদের প্রশ্রয় এবং লালনের ব্যবস্থা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
তারা দাবি করেন, আদালতকে ব্যবহার করে এরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিকল্পিত উস্কানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার নীল নকশা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
হেফাজত নেতৃবৃন্দ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার না করলে শুক্রবার বাদ জুমা সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার জন্য সর্বস্তরের আলিম-ওলামা ও নবীপ্রেমিক জনতার প্রতি আহ্বান জানান।
হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু সরকার একজন আল্লাহদ্রোহী ও নাস্তিককে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে দেশের ষোল কোটি মুসলমানকে বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। এরূপ অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে বিক্ষুব্ধ জনতা কর্তৃক আইন হাতে তুলে নেবার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
তারা বলেন, ইসলাম অবমাননাকারী নাস্তিকদের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলাম জিরো টলারেন্স দেখাবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন, হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী, সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী, মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা তাফাজ্জল হোসাইন হবিগঞ্জ, মুফতি মোজাফফর আহমদ, আল্লামা মুফতি আহমদুল্লাহ, মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুরপুর, মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা সালাহুদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মুফতি জসিমুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান প্রমুখ।

