নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্দোলন, নির্বাচন ও রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে খালেদা জিয়া পরাজিত হয়েছেন। সবকিছু হারিয়ে এখন ইফতার মাহফিলে মোনাজাত করতে গিয়েও তিনি বলেন- এই সরকারের ওপর গজব নাজিল হোক! ক্যান ইউ ইমাজিন, কী নীচ, কী হীনমন্য নেত্রী উনি? ভাবতেও অবাক লাগে!’
রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত উনি ঘরে ফিরে যাবেন না। কিন্তু দেশের মানুষসহ গোটা বিশ্ব অবাক তাকিয়ে দেখলো- উনি পরাজিত হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে শুণ্য হাতে ঘরে ফিরে গেলেন।’
খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করি, ‘এখন কোথায় আমার মায়েরা, বোনেরা, ট্রাক ড্রাইভারেররা। কেন তাদেরকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন? এর জবাব উনি কি দেবেন? খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে যেভাবে মানুষকে হত্যা করেছেন, একদিন তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আগামী ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর সময় তৈরি পোশাক শিল্পে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতা ও সমালোচনা উপেক্ষা করে আমার তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি ধরে রেখেছি।’
এসময় তিনি বাংলাদেশ নিয়ে সমালোচকদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তীতে যারা বাংলাদেশ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছিল তারাও এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অধিকাংশ উন্নত দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত কোঠায় পণ্য রপ্তানি করে যাচ্ছি। চীন ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে কোঠামুক্ত, শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে তা ভবিষ্যতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এতে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানিতে উভয় দেশই ভূমি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। রপ্তানিতে বাংলাদেশ অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিপিটি বাস্তবায়ন হলে ভিয়েতনামের মতো আমরাও যুক্তরাষ্ট্রে ডিউটি ফ্রি পণ্য রপ্তানি করতে পরবো। তৈরি পোশাক শিল্পে আমরা একটু যত্নবান হলে সম্ভব।’
বিএনপি শাসন আমলের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো কোন বছরই ৪ শতাংশের বেশি জিডিপি অর্জন হয়নি। আর আমাদের সময় এবার অর্জন হয়েছে ৬ শতাংশের বেশী। আমরা বিশ্বে যে মর্যাদা লাভ করেছি। সে মর্যদা আগে আমাদের ছিলো না। স্বাধীনতার পর মাথাপিছু আয় ছিলো ৫০ থেকে ৭০ ডলার এখন ১৩০০ ডলার।’
এসময় তিনি বাংলাদেশ নিয়ে সমালোচকদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক বলেছিল দেশটি স্বাধীন হয়েছে কিন্তু সব সময়ই নির্ভরশীল হতে হবে বিদেশি সাহয্যের ওপর। বিশ্বে ব্যাংকের সুর ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিনজার বলেছিলেন দেশটি একটি তলাবিহীন ঝুঁড়ি, দেশটিতে যতই সাহায্য দেয়া হোক এতে কোন কাজে আসবে না। আজ তারাই মন্তব্য করছে বাংলাদেশের উন্নয়ন ইমাজিন। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।’
রমজান মাসেও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলে মন্ত্রী দাবি করেন। কিছু দিনের মধ্যে ৩ বছরের জন্য রপ্তানি-আমদানি পলিসি করা হবে বলেও জানান তিনি।

