বান্দরবান প্রতিনিধি : পাহাড় ধসে সড়কের ওপর পড়ায় বান্দরবানের রুমা, থানছি, লামা-সূয়ালক ও আজিজনগর-গজালিয়া অভ্যন্তরীণ রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি প্রধান সড়কের স্বর্ণ মন্দির এলাকার পুলপাড়া বেইলি ব্রিজ পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, কেরানীহাট-বাজালিয়া এলাকার কয়েকটি স্থানে ৪-৫ ফুট পানি জমে থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল বান্দরবানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবানের সাংগু নদীর পনি বৃদ্ধি পাওয়ায় থানছি উপজেলার তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে নদীপথে কোনো নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত বোট চলাচল করছে না। ফলে এ দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় কোনো পর্যটককেও যেতে দেয়া হচ্ছে না।
থানছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নদীপথে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পৌর কাউন্সিলর শামসুল হক সামু জানান, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান শহরের নিম্নাঞ্চল আর্মিপাড়া, ওয়াবদা ব্রিজ, শেরে বাংলা নগর, ইসলামপুর, কাসেমপাড়া, অফিসার্স ক্লাব এলাকা, ক্যাচিং পাড়াসহ কয়েকটি এলাকার পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ বিভিন্ন বিদ্যালয় ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। লামা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের তিন শতাধিক মানুষ ঘরবাড়ি এবং চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে।
গত পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বান্দরবানে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের ডেপুটি নেজারত (এনডিসি) শামীম হুসাইন জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বান্দরবান সদরে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

