ঢাকাWednesday , 24 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিককে সহ্য করতে পারেন না ডা. ইমরান

Link Copied!

Dr-imranব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : জেলা সদর হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সেই ‘উম্মাদ’ ডাক্তার ইমরান সাংবাদিক সহ্য করতে পারেন না। তার অশোভন আচরণ থেকে রেহাই পাননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ মো. মিজানুর রেজাসহ কোনো সাংবাদিক।
বুধবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে উন্মাদ ডাক্তারের কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে।
মিজানুর রেজা তার ছেলেকে কানের চিকিৎসা করাতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় দেন। এরপর সাংবাদিক সম্পর্কে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেন এই ‘উন্মাদ’ ডাক্তার ইমরান। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ডাক্তারের তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে প্রেসক্লাবের নেতারা হাসপাতালে গেলে তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন ডাক্তার ইমরান।
এ ব্যাপারে প্রেসক্লাবের নেতারা এক সপ্তাহের মধ্যে ডাক্তার ইমরান ও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক মো. আকবর আলী চৌধুরীর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রেজা জানান, সকালে তার ছেলেকে কানের ব্যথাজনিত সমস্যার জন্য সদর হাসপাতালে যান তিনি। যথারীতি টিকেট সংগ্রহ করে লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি ডাক্তার ইমরানের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ডাক্তার ইমরান তার কিছু দালালদের সঙ্গে প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে কথা বলছিলেন। অনেকক্ষণ সিরিয়াল মেনে রুমে ঢুকেও তার ছেলেকে ডাক্তার না দেখে দালালদের সঙ্গে কথা বলছে দেখে মিজানুর রেজো ডাক্তারকে ডেকে বলেন তার রুমে অন্য ৪ জন লোক কারা? এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উন্মাদ ডাক্তার ইমরান ক্ষেপে যান তার ওপর। এক পর্যায়ে মিজানুর রেজা তার পরিচয় দিলে ইমরান আরো ক্ষেপে উঠেন তার উপর। এ সময় উন্মাদ ডাক্তার ইমরান সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রেসক্লাব সভাপতির সঙ্গে অশোভন আচরণ করতে থাকে। খবর পেয়ে প্রেসক্লাবের অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডাক্তার ইমরানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন তিনি।
মিজানুর রেজা আরো জানান, এ বিষয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন জামি জানান, প্রতিনিয়ত এই ডাক্তার সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। আমরা এই উন্মাদ ডাক্তার ইমরান ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আকবর আলী চৌধুরীকে এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. ইমরান খানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেতে চাইলে তার সহকারী ফোন রিসিভ করে জানান ইমরান খান ব্যস্ত আছেন। আর তত্ত্বাবধায়ক মো. আকবর আলী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন সকালে সদর হাসপাতালে এক নারী রোগীর অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক ইমরান খান। আধাঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর সাড়ে ১০টার দিকে ওটি থেকে বের করার সঙ্গে সঙ্গেই ওই রোগী (বীনা) মারা যান। বীনা মারা যাওয়ার পর কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই তার লাশ হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।
নিহতের স্বামী দেবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস ও ভাই পলাশ সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘চিকিৎসক ইমরান খান অপারেশনের আগে তার জন্য বার্গার আনতে বলেন। এতে পলাশ দুটি বার্গার আনলেও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ডাক্তার ইমরান। এবং বলেন অন্য হাসপাতালে অপারেশন করালে পনের হাজার টাকা খরচ হতো। আর আমাদের কয়টা বার্গার খাওয়াতে পারবে না?’
পলাশ আরও জানান, ডা. ইমরানের অবহেলার কারণেই বীনা মারা গেছে। মৃত্যুর পর তাদের মৃত্যুর ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে বের করে দেন সেই ডাক্তার ও তার কয়েকজন দালাল।
এছাড়া, গত ১ ফেব্রুয়ারি রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রথম আলোর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি শাহাদৎ হোসেন ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলামেইল ও চ্যানেল নাইনের জেলা প্রতিনিধি আল মামুন পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় মারাত্মক আহত এক পুলিশ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক এমরান খান তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় সে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে জানায়, ‘লিখিত না দিলে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়া যাবে না।’ একথা বলেই ওই চিকিৎসক সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার কক্ষে থাকা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও বেসরকারি ক্লিনিকের কয়েকজন দালালকে ডেকে এনে তাদের (দুই সাংবাদিক) ধরে পেটাতে বলেন। পরক্ষণেই তিনি দুই সাংবাদিককে ধরিয়ে দিতে পুলিশ ডাকতে বলেন। পরে ওই সাংবাদিকেরা নিজেদের পেশাগত পরিচয় দেয়ার পরও তিনি অশোভন আচরণ করে এক পর্যায়ে তাদের পেটাতে তেড়ে আসেন। এ ঘটনায় দুই সাংবাদিক হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।