নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাতায়াতের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক বসছে আজ। বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এই বৈঠকের আয়োজন করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ছাড়া বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘুরমুখো মানুষদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার ব্যাপারে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে হতাশা রয়েছে। কেননা, এসব বৈঠকে নেয়া অধিকাংশ সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয় না। প্রতি বছরেই সিদ্ধান্ত হয় ঈদে সড়কপথে যাত্রীদের যানজটে দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না। সড়ক-মহাসড়ক যান চলাচলের জন্য সচল থাকবে। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হবেনা- ইত্যাদি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হয়েই বাড়ি ফিরতে হয় ঘরমুখো মানুষ।
সড়ক ও মহাসড়কের ওপর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৩টি মহাসড়কে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার স্পট, যা একেবারেই সংস্কার ছাড়া। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কমপক্ষে ২০০টি স্থান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
এবারের ঈদের শুরুতেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলক্রসিংয়ে ও মির্জাপুর বাইপাস স্টেশনে বৃষ্টির কারণে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই সড়কে যানবাহন ধীরগতি চলতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার কর্মদিবসের শেষদিন থাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যায় এই সড়কে।
পাশাপাশি মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলক্রসিংয়ে কোনো উড়ালসেতু না থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তাই এই সড়কের যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানায়।
এ ব্যাপারে সাজেদুল ইসলাম নামের মির্জাপুর ট্রাফিক পরিদর্শক বলেন, এমনিতেই এই সড়কটি অনেক সরু। একদিকে বৃষ্টির কারণে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। অন্যদিকে সরু রাস্তার কারণে দেখা দেয় তীব্র যানজট।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চারলেনের উন্নতির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে এই মহাসড়ক দুটির সংস্কারের কাজে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তসহ খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। এই মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে ধীরগতিতে। ঈদের আগে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা-মাওয়া সড়কে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় মাওয়া-জাজিরা ফেরিঘাটে দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। ঈদের শুরুতে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরো বাড়বে।
জানা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দির টোল প্লাজার থেকে কুমিল্লা সদরের আলেখার চর, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যমুনা সেতুর আগে টাঙ্গাইল বাইপাস থেকে পৌলি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিনেই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদের সময় এই যানজন ৫০-৬০ কিলোমিটার অতিক্রম করে যায়।
এছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাবু বাজার ব্রিজের পর থেকে কদমতলী মোড় হয়ে জনি টাওয়ার পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে মাওয়া ফেরিঘাটে প্রতিদিনেই দীর্ঘ যানজটে পড়ে দুর্ভোগে শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। ঈদের আগে এ যানজট আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

