নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বাগেরহাটের রাজাকার কমান্ডার সিরাজ মাস্টার এবং তার দুই সহযোগী খান আকরাম হোসেন ও লতিফ তালুকদারের মামলা যে কোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার উভয়পক্ষের আইনি যুক্তি উপস্থাপন শেষে চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার আদেশ দেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর সাইয়েদুল হক সুমন আসামিদের বিরুদ্ধে তার আইনি যুক্তি উপস্থাপন তুলে ধরেন।
অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন এবং সিরাজ মাস্টারের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আবুল হাসান পাল্টা আইনি যুক্তি দেখান। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বাগেরহাটের এই ৩ রাজাকারের রায় যে কোনো সময় দেয়া হবে বলে মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এর আগে গত ১৫, ১৭ ও ২৩ জুন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ১৭ ও ২১ জুন সিরাজ মাস্টারের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান এবং খান আকরাম হোসেন ও লতিফ তালুকদারের পক্ষে ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
গত ৬, ৭ ও ২১ এপ্রিল আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন পাঁচজন সাফাই সাক্ষী। তারা হচ্ছেন- মো. আমজাদ শেখ, সরদার আব্দুল মান্নান, আব্দুর রশিদ মল্লিক, ইউসুফ আলী দিহিদার এবং মো. ফেরদৌস খান।
অন্যদিকে গত বছরের ২ ডিসেম্বর থেকে গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত সিরাজ-লতিফ-আকরামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হেলাল উদ্দিনসহ ৩২ সাক্ষী।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ নভেম্বর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী গ্রহণ ও প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন ঠিক করে দেন আদালত। গত ২০ অক্টোবর অভিযোগের উপর শুনানি শেষে ৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তার আগেরদিন গত ১৪ সেপ্টেম্বর সায়েদুল হক সুমন ও শেখ মুশফিক কবির তিন আসাসির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে ছয়টি এবং আব্দুল লতিফ ও খান আকরামের বিরুদ্ধে যৌথভাবে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দেয়।
এদের বিরুদ্ধে ৯টি খণ্ডে মোট ৮৪৪ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া এদের বিরুদ্ধে ৬৫ সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানায় তদন্ত সংস্থা।

