ঢাকাMonday , 22 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইভিএমে কারচুপি রোধ অসম্ভব

Link Copied!

EVMনিজস্ব প্রতিবেদক : ইলেক্ট্রানিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালুর ৫ বছর হলেও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে যন্ত্রটি। ইভিএম নিয়ে নানা মহলে নানা ধরনের কথা হলেও আজ পর্যন্ত এটিকে ক্রুটিমুক্ত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি দুই নির্বাচন কমিশনার সিইসির কাছে ইভিএমকে ক্রুটিমুক্ত করার ব্যাপারে তাদের মতমতা ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জাবেদ আলী ইভিএমকে ক্রটিমুক্ত করতে ভারতের কাছ থেকে কারিগরি সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান ইভিএম দিয়ে কারচুপি রোধ সম্ভব নয় বলে নিজের মত ব্যক্ত করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক। তিনি যন্ত্রটি পুনর্গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।
গত ২১ মে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী ইভিএমকে সচল করার জন্য সিইসিকে চার দফা প্রস্তাব দিয়ে আনঅফিসিয়ালি নোট দেন। তার এক মাস পর গতকাল রোববার (২০ জুন) আরেক নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক কারিগরি ক্রুটি দূর করার পরামর্শ দিয়ে সিইসিকে অনুরোধ করে চিঠি দেন।
নোটে জাবেদ আলী বলেন, ‘ভারত এক যুগ ধরে ইভিএম ব্যবহার করে আসছে। অর্থাৎ ২০০৪ সাল থেকে ইভিএমের মাধ্যমে দেশটিতে ভোটগ্রহণ হয়। কিন্তু আমরা ২০১০ সালে ইভিএম চালু করার পরও ক্রুটির কারণে তা ব্যবহার করতে পারছি না। তাই প্রয়োজনে ভারতের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ নেয়া যেতে পারে।’
সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ মেশিন কোর্স ফ্যাক্টোরির সহায়তা নিয়ে দেশীয়ভাবে ব্যাটারি উৎপাদন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে চীন থেকে ব্যাটারির তৈরির কাঁচামাল নিয়ে আসারও পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে আবদুল মোবারক লিখেছেন, ‘বর্তমানে যে ইভিএম আছে, এতে ভোট সংখ্যার কাগজই রেকর্ডের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ভোটারের পরিচিতি নম্বর শনাক্তকরণেরও ব্যবস্থা নেই। ফলে এ যন্ত্রটি দিয়ে কারচুপি রোধ করা সম্ভব নয়।’
ইভিএমে ভোটারের পরিচিত নম্বর ও আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করার এবং প্রদত্ত বা গৃহীত ভোটের কাগজই রেকর্ড, যন্ত্রের ভেতরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভোটগ্রহণ বা প্রদান যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি তার প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নষ্ট মেশিন কার্যকর করার বিষয়ে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়ে কোনো ফল পাওয়া যায়নি, তাই কমিশনের নিজস্ব প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে দিয়েই তা পুনর্গঠন করা দরকার। এক্ষেত্রে যন্ত্রটি খুলে পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও পুনর্গঠনের দৃশ্য ভিডিও করারও পরামর্শ দেন তিনি। যাতে ইসির আইসিটি বিভাগসহ অন্য বিভাগের প্রত্যেক প্রকৌশলী কর্মকর্তা ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মচারীরা ইভিএম কীভাবে প্রস্তুত হয় ও কার্যকর হয়, সে বিষয়ে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে দুই কমিশনার সিইসির কাছে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা হবে কমিশনে।
এদিকে সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন অর্থাৎ গত ১৮ মার্চ সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ ইভিএম নিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ইভিএমের ক্রুটি সারানোর ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে যন্ত্রটির ব্যবহার বন্ধ থাকবে।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে যেতে হবে। বর্তমানে সাড়ে ৯ কোটি ভোটার, আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এতো বিশাল সংখ্যক ভোটারের নির্বাচনে ফল নিখুত ও স্বল্প সময়ের মধ্যে গণনা করতে হলে আমাদেরকে নতুন উদ্যোগ নিতেই হবে।’
উল্লেখ্য, এটিএম শামসুল হুদার কমিশন ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে এ ভোট যন্ত্রের (ইভিএম) পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর তারা কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে যন্ত্রটির ব্যবহার করে সুফল পান। তবে বর্তমান কমিশন ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ব্যবহারের সময় একটি ইভিএমে ত্রুটি দেখা দেয়। যা এখনো পর্যন্ত সাড়াতে পারেনি কমিশন। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েটও এ বিষয়ে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। অবশেষে এই কমিশনাররা নিজেদের উদ্যোগে যন্ত্রটি ক্রুটিমুক্ত ও উন্নয়নের সুপারিশ তুলে ধরলো।