আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : কনজারভেটিভ সরকারের ব্যয় কমানোর নীতির প্রতিবাদে লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সামনে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে অন্তত ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। পিপলস অ্যাসেম্বলি অ্যাগেইনস্ট অস্টেরিটি নামের একটি সংগঠন এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
নির্বাচনে কনজারভেটিভরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্রিটেনের ক্ষমতা গ্রহণের ৪৪ দিনের মাথায় সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিবাদে এত বড় বিক্ষোভ হলো। ওই নির্বাচনে কনজারভেটিভ দল ৩৩১ আসন পেয়ে বিজয়ী হয় এবং লেবার পার্টি ২৩২ আসন পেয়ে বিরোধীদলের আসনে বসে।
সরকারের ব্যয় কমানোর নীতির প্রতিবাদে গত কয়েক মাস ধরে লন্ডনে একই ধরনের একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে বের হওয়া র্যালিতে ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ বিক্ষোভকারী অংশ নেয়। আরও কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়েছিল গ্লাসগোর জর্জ স্কয়ারে। এছাড়া লিভারপুল ও ব্রিস্টলসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শতকরা মাত্র ৩৭ ভাগ জনগোষ্ঠীর সমর্থন থাকা কনজারভেটিভ পার্টির দেশে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনার অধিকার নেই। জনসেবামূলক খাতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে দেশ ধ্বংসের দিকে যাবে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। ব্যয় কমানোর নীতি বাস্তবায়িত হলে ব্রিটেনের দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরো দরিদ্র হবে বলে তারা দাবি করেন।
পার্লামেন্ট স্কয়ারের বিক্ষোভ র্যালিতে অংশ নেয়া গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য ক্যারোলাইন লুকাস বলেন, ‘ ব্যয় সংকোচ কাজ করছে না এ কথাটি বলতে আমরা এখানে এসেছি। আমরা এখানে বলতে এসেছি চাকরীপ্রার্থীদের ভাতা ব্যাংকিংখাতে ধস নামায়নি। এটা নার্স, শিক্ষক এবং দমকলকর্মীরা নয়, যারা বেপরোয়াভাব আর্ন্তজাতিক বাজারে জুয়া খেলছে। তাই আমাদের সেসব নীতি বন্ধ করা উচিৎ যেগুলি দুর্যোগের সময় তাদের দেয়া হয় যা তাদের সৃষ্টি নয়।’
তবে সরকার বলছে, ব্যাপক বাজেট ঘাটতি কমাতে সরকারি ব্যয় কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

