ঢাকাFriday , 29 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবপাচারে অপহরণ ফাঁদ

Link Copied!

manকক্সবাজার প্রতিনিধি : পাচার হওয়া লোকের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই নিজ উদ্যোগে ও স্বেচ্ছায় সাগরপথে মালয়েশিয়ায় গেছেন। বাকি মাত্র ১০ শতাংশ লোককে অপহরণ ও জিম্মি করে ইচ্ছের বিরুদ্ধে পাচার করে দিয়েছে সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র। রীতিমত ফিল্মি স্টাইলেই এসব লোককে অপহরণ করা হয়। অপহরণের শিকারদের তালিকায় ছাত্র থেকে শুরু করে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি(এমআর), এনজিও কর্মী, পাগল, ব্যবসায়ী, জেলে, এমনকি পুলিশের সদস্যও রয়েছে।
সূত্রমতে, গত তিন মাসে শুধুমাত্র উখিয়ার মরিচ্যাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকেই অন্তত আট জন ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। মুক্তিপণ দিয়েও তাদের ফেরত পায়নি পরিবার।
মরিচ্যাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাক্যসেম বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্র। তারা ৮ থেকে ১০ জন হবে। স্কুলের টিফিনের সময় কৌশলে অপহরণ করে এদের মালয়েশিয়ায় পাচার করে দিয়েছে পাচারকারীরা। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে ইমরান, আবসার উদ্দিন ভুট্টু ও জায়েদ। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, বশির নামে স্থানীয় এক মানবপাচারকারী ও দালাল নিখোঁজ ছাত্রদের পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। ছাত্রদের উদ্ধারে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি তার কাছ থেকে। পাচারকারীদের দাবিকৃত টাকা দিয়েও তাদের উদ্ধার করা যায়নি। ছাত্রদের হারিয়ে তাদের পরিবারে চলছে আহাজারি, শোকের মাতম।
বছর খানেক আগে টেকনাফে বেড়ানোর আমন্ত্রণ জানিয়ে অপহরণ করা হয় উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার বাচা মিয়ার ছেলে মো. শাহাজাহান ও তার বন্ধু আবু সিদ্দিককে। পরে তাদের পাচার করে দেয়া হয়। দালালদের দাবি করা টাকা বুঝে দিয়ে তারা পৌঁছেছিলেন মালয়েশিয়ায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মালয়েশিয়ায় পৌঁছার পরেই সেখানকার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা। এরপর থেকে কারাগারে দুর্বিষহ দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
তবে শুধুমাত্র মুক্তিপণের টাকা দিয়েই পাচারকারী চক্রের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন রাজাপালং ইউনিয়নের হলদিয়া পাড়ার ফার্নিচার মিস্ত্রি জমির। টেকনাফে ফার্নিচার পৌঁছে দিতে গিয়ে অহরণকারীদের কবলে পড়েন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দালালদের দাবি করা মুক্তিপণ দিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বোট থেকে ছাড়া পান তিনি।
শুধু তাই নয়, ৫/৬ মাস আগে ট্রলার ঘাটে মানব পাচারকারীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন গোয়েন্দা পুলিশের এক সদস্য। এরপর তাকে পাচার করে দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়া অবস্থান করছেন। একই ভাবে ওষুধের অর্ডার নিতে গিয়ে উপকূলীয় শাহপরীর দ্বীপ থেকে অপহরণের শিকার হন এক প্রতিনিধি (এমআর)। পরে তাকেও পাচার করে দেয়া হয়েছে মালয়েশিয়ায়। তবে মালয়েশিয়ায় পৌঁছতে পারলেও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই কারো কাছে। তার মতোই পাচার করে দেয়া হয়েছে বেসরকারি সংস্থার এক কর্মীকে।
এমনকি অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিও রক্ষা পায়নি পাচারকারীদের কবল থেকে। এলাকায় ‘পাগল’ হিসেবে পরিচিত উখিয়ার এক ব্যক্তিকে পাচার করে দিয়েছে পাচারকারীরা। এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস মেলেনি। এছাড়া সাগরে মাছ ধরার সময় বেশ কিছু জেলেকেও অপহরণ করা করে পাচার করে দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। টেকনাফের বেশ কিছু এলাকা পাচারকারী আর দালালদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শাহপরীর দ্বীপ, মাদারবনিয়া, জালিয়াপাড়া, সেন্টমার্টিনের পথে জেটিঘাট, খরারছড়া, সোনারপাড়া। অপহরণ ও পাচারের ভয়ে এসব এলাকায় কেউ পা বাড়াতে চান না।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শীর্ষ পাচারকারীরা লোক সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু দালালকে। দালালরা এক ব্যক্তিকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিলেই পায় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। দালালদের ভাষায়, পাচারের উদ্দেশে সংগ্রহ করা লোককে বলা হয় ‘বস্তা’। ‘বস্তা’ সংগ্রহ করতে গিয়ে দালালরা জোর করেই অনেককে তুলে দিয়েছে পাচারকারীদের হাতে।
মূলত, পাচারের উদ্দেশ্যে দালালদের হাতে আটক হওয়া ব্যক্তি ও তার পরিবারকে পড়তে হয় চরম সঙ্কটে। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারলে যেমন নিশ্চিত পাচার করে দেয়া হয়। তেমনি দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা কম হলেও পাচার করে দেয়া হয়। তবে এরা দালালদের নির্যাতনের শিকার হয়। এক পর্যায়ে অর্ধাহারে অনাহারে রোগে শোকে মারা পড়ে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অপহরণ করে পাচার করে দেয়ার অনেক অভিযোগ থানায় এসেছে। কয়েকটি সুরাহা হলেও বাকিগুলোতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে চাপ দিয়ে কিছু করা যায় না। তাতে বন্দিদশায় অপহৃত ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’